
স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের সহযোগিতায় রাজশাহীতে স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচির বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী এ উৎসবে রাজশাহী মহানগরীর ৪৯টি স্কুলের ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, অভিনেতা, লেখক ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ, পাখি বিশেষজ্ঞ, আলোকচিত্রী ও লেখক ইনাম আল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান,গ্রামীণফোন লিমিটেডের রাজশাহী সার্কেলের টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহাসহ বিভিন্ন শিক্ষা দপ্তর ও সাহিত্য সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. চিত্রলেখা নাজনীন বক্তব্যের শুরুতেই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের এই সাফল্যকে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে খায়রুল আলম সবুজ বলেন, সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে তোমাদের জগৎকে বড় করতে হবে। আর এই জগৎকে বড় করতে হলে বই পড়তে হবে।
ইনাম আল হক বলেন, বই দীর্ঘ সময় ধরে জ্ঞান ধারণ করে আসছে। বইয়ের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের রাজশাহী সার্কেলের টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহা বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তরুণদের মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনে গত দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সহযাত্রী ও অংশীদার হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বই পড়ার পাশাপাশি নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও প্রাক্তন সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান স্বাগত বক্তব্যে বইপড়া কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সংগঠকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে এ কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, পুরস্কারপ্রাপ্ত ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৮১ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৫৪ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৮৫ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৩ জন ছেলে ও ১ হাজার ৭০৭ জন মেয়ে। এর মধ্যে, ৩৯টি স্কুলের ১ হাজার ৭৬৬ জনকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১০টি স্কুলের ৩৫৪ জনের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকদের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন করা হয়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST