অনলাইন ডেস্ক : ৬০ বছর ধরে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ। প্রতিটা টুর্নামেন্টেই ট্রফির খুব কাছে গিয়েও ট্র্যাজিক হৃদয়ভঙ্গ। তবে অতীত ট্র্যাজেডিকে এবার স্রেফ মোটিভেশন হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ডের ২৪ বছর বয়সী তারকা ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকা দাবি করেছেন, নতুন কোচ টমাস টুখেলের অধীনে তাদের স্বপ্ন এবার বিশ্বজয়ের।
গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড ট্রফির খুব কাছে গিয়েও ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছে। ২০২০ ইউরোর ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হার, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে বিদায় এবং ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে স্পেনের কাছে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ।
তবে কাছে গিয়েও না পাওয়ার বেদনা নিয়ে সাকার স্পষ্ট বার্তা, ‘আমরা প্রতিটা টুর্নামেন্টেই জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে গিয়েছিলাম এবং খুব কাছে পৌঁছেছিলাম। এখন আমরা সেই স্মৃতিগুলোকে স্রেফ জেদ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করছি। আমরা নিজেদের আবার সেই বিশ্বজয়ের মঞ্চে নিয়ে যাব এবং এবার শেষ দাগ পর্যন্ত লড়াই করব।’
ইংল্যান্ডের বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী এবং ব্রিটিশ মিডিয়ার অনবরত চাপ নিয়ে একদমই চিন্তিত নন এই আর্সেনাল উইঙ্গার। সাকা বলেন, ‘বাইরে থেকে কে কী প্রত্যাশা করছে, তার চেয়ে বড় কথা আমাদের নিজেদের ওপর নিজেদের প্রত্যাশা কতটা। আমরা বাইরের সব হইচই বা শোরগোল কানে তুলি না। আমাদের লক্ষ্য ও ভাবনা একদম পরিষ্কার।’
দলকে বদলে দেওয়া নতুন জার্মান মাস্টারমাইন্ড টমাস টুখেলকে নিয়ে সাকার মূল্যায়ন, ‘টুখেল একজন জাত উইনার। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের কাছে তার চাহিদা এবং রণকৌশল নিয়ে একদম পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। বাছাইপর্বে আমরা কোনো গোল না খেয়ে যে টানা আট ম্যাচ জিতলাম, তাতেই তার কৌশলের জোর প্রমাণিত। পুরো দল তার অধীনে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে।’
১৯৬৬ সালে ববি মুর ও জিওফ হার্স্টদের হাত ধরে ইংল্যান্ড প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল। সাকা মনে করেন, সেই কিংবদন্তিরাই বর্তমান প্রজন্মের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন এবং ১৯৬৬ সালের সেই সোনালী ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে উত্তর আমেরিকার মাটিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরাই এখন গোটা ইংল্যান্ড দলের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST