
স্টাফ রিপোর্টার : বছর ঘুরে মুসলিমদের মাঝে আবার ফিরে এসেছে সিয়াম-সাধনা ও আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের প্রথম দিনে রাজশাহীর ইফতার বাজারে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও বাজার এলাকায় অস্থায়ী ও স্থায়ী ইফতার দোকান সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে ইফতার সামগ্রী কেনাবেচা শুরু হলেও বিকেলে জমে ওঠে পুরোপুরি।
নগরীর সাহেব বাজার, জিরোপয়েন্ট, গণকপাড়া, লক্ষ্মীপুর, নিউমার্কেট ও শালবাগান, রেলগেট, বাস টার্মিনাল, ভদ্রা, তালাইমারি, কোর্ট স্টেশন, নওদাপাড়া এলাকায় বসেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী ইফতারের দোকান। এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সাহেব বাজারের ইফতারের দোকানগুলোতে জনপ্রিয় আইটেম কিনতে বিত্তবান মানুষদের দেখা গেছে।
এ ছাড়াও ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, হালিম, জিলাপি ও বিভিন্ন ধরনের শরবতের চাহিদা রয়েছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রথমদিন হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি ছিল। বিশেষ করে ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবারের চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক দোকানে বিকেল গড়ানোর আগে কিছু জনপ্রিয় আইটেম শেষ হয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রমজানজুড়ে এমন ক্রেতা সমাগম অব্যাহত থাকলে তাদের ব্যবসা ভালো হবে। তবে ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ইফতার কিনতে আসা তানিয়া বলেন, রোজা মানেই ইফতারের আনন্দ। এটি বলে বোঝানো যাবে না। আমরা বান্ধবীরা মিলে ইফতার করবো এজন্য কিনতে এসেছি। সব জিনিসই অল্প অল্প করে কিনবো। তবে গত বছরের তুলনায় এবার একটু দাম বেশি। আরেক ক্রেতা তাকদির বলেন, রোজা আসলেই ভালো লাগে। আজ প্রথম রোজা এজন্য ইফতারের দোকানে এসেছি। ইফতার কিনে পরিবারের সাথে ইফতার করবো।
এ ছাড়াও ক্রেতাদের অনেকেই জানান, বাসায় সব আইটেম তৈরি করা সম্ভব হয় না। তাই প্রিয় কিছু খাবার বাইরে থেকে কিনে ইফতারকে বৈচিত্র্যময় করা হয়। তবে কয়েকজন ক্রেতা বাড়তি দামের অভিযোগও করেছেন। তাদের দাবি, কিছু দোকানে আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
ইফতার বিক্রেতারা, রমজানের প্রথম দিন হওয়ায় বিক্রি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। অনেকেই পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য বাড়তি ইফতার কিনছেন। কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় কাঁচামালের দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বিকেল ৪টার পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে, যা মাগরিবের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। হালিম বিক্রেতা শরিফ বলেন, প্রথম দিন বলে প্রস্তুতিও বেশি ছিল। আশা করছি পুরো রমজানজুড়েই ভালো বিক্রি হবে। তবে কিছু দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন নগরবাসী।
এ দিকে ইফতারের আগে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে সাহেববাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। পথচারীদের চলাচলেও কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হয়। রমজানের প্রথম দিনেই এমন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে রাজশাহী নগরী।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST