
বগুড়া প্রতিনিধি : উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনেই বড় জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার আসন গুলোতে কাঙ্খিত জয় পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান রাত দেড়টায় নিশ্চিত করেছেন যে, সাতটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এসব ফলাফলে পোস্টাল ব্যালটের ভোটও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ) ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৫৯ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা (হাতপাখা) পেয়েছেন ১০২৬ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আসাদুল হক (ডাব) পেয়েছেন ৫৯৭ ভোট এবং গণফোরামের মো. জুলফিকার আলী (উদীয়মান সূর্য) পেয়েছেন ২৯৮ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নাগরিক ঐক্য’র মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি) পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জালাল উদ্দিন (হাতপাখা) পেয়েছেন ৯১৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.রেজাউল করিম তালু (সিড়ি) পেয়েছেন ১৮৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. সেলিম সরকার (ট্রাক) পেয়েছেন ২৭৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন ৪৩৪ ভোট। এ আসনে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২ জন ভোটার ভোট দেন, যা শতকরা ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের নূর মোহাম্মাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শাহজাহান আলী তালুকদার (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৭৮৯ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. শাহিনুল ইসলাম (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১৪৯৫ ভোট।
আসনের ১১৮টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭১৬ জন ভোট দেন, যা শতকরা ৭২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের মো. মোস্তফা ফয়সাল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯১ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহা. ইদ্রিস আলী (হাতপাখা) পেয়েছেন২ হাজার ৯৩৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল(লাঙ্গল) পেয়েছেন ১১শ ভোট।
এ আসনে ১১৫টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা শতকরা ৭৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ ২ লাখ ৪৭ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার৯১ ভোট।
এই আসনের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মীর মো. মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৪২ ভোট। এলডিপি‘র খান কুদরত ই সাকলায়েন (ছাতা) পেয়েছেন ১১৮৩ ভোট এবং সিপিবি‘র শিপন কুমার রবিদাস(কাস্তে) পেয়েছেন ১৭৭৪ ভোট। এ আসনে ৪ লাখ ৬৪৪ জন ভোটার ভোট দেন, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের মো. আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৮ ভোট, জেএসডি‘র আবদুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা) পেয়েছেন ২৭৬ ভোট এবং বাসদের দিলরুবা পেয়েছেন ৭৯৫ ভোট।
এ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিলটন ২ লাখ ৬২ হাজার৫০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতের মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ২০৩৭ ভোট এবং বাংলাদেশ মুসলিমলীগের মো. আনসার আলী(হারিকেন) ভোট পেয়েছেন ৫২৮ ভোট। আসনের ১৭৩টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৫০ জন ভোটার ভোট দেন, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
ভোট গ্রহনের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়। কোন বিরতি ছাড়া টানা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন করা হয়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST