৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই : কাদায় চাপা পড়েছে সব

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক : নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউই বেঁচে নেই। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে এসে তা নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা। আর কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করার সম্ভাবনাও সেখানে নেই। ফলে ওই সুড়ঙ্গের উদ্ধারকাজ শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করেছিল। নেতৃত্বে ছিলেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। নেপালি সেনার একটি দলও সেই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছিল।

এপিএফ-এর সদস্য অম্বর মাহাত সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘গোটা প্রকল্পটির প্রত্যেক অংশ কাদা আর মাটিতে চাপা পড়ে গিয়েছে। কোনও কোনও অংশ পাথরে ভরে রয়েছে। আমরা সুড়ঙ্গের ভিতর হামাগুড়ি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়েছি। যেখানেই খুঁজেছি, শুধু কাদা আর মাটি পেয়েছি।’’ বানের পানির চাপে ওই সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবও ধসে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

আরও পড়ুনঃ   ‘স্পাইডার-ম্যান’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে কে এই অভিনেত্রী?

গত ২৬ অগস্ট বুধবার সকালে ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে যখন আকস্মিক বন্যা আসে, সে সময় নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ছ’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। প্রতি ক্ষেত্রেই সুড়ঙ্গ কেটে মাটির নীচে বানানো হয়েছিল পাওয়ারহাউস। প্রত্যেকটি প্রকল্প বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু সুড়ঙ্গেই ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যম।

এই পরিস্থিতিতে সর্বত্র জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছিল। কাদা এবং মাটির স্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের খোঁজ করছেন নেপালি সেনা ও পুলিশের আধিকারিকেরা। ন’দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে দু’জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে। একই সুড়ঙ্গ থেকে পাওয়া গিয়েছে এক শ্রমিকের দেহও।

উদ্ধার দুই শ্রমিকদের নাম সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন। তাদের যখন উদ্ধার করা হচ্ছিল, সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরও কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ   ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় চালকান্ডে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

কিন্তু উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে দেখে এসেছেন, আর কেউ সেখানে নেই। সঞ্জয় এবং কবীরকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সঞ্জয় জানিয়েছেন, বান আসছে শুনে সুড়ঙ্গ থেকে অন্যদের বার করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তাতেই দেরি হয়ে যায় এবং তিনি নিজে আর বেরোতে পারেননি। ন’দিন টানা সুড়ঙ্গের ভিতরে মন্ত্র জপ করেছেন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। বেঁচে যে বেরোতে পারবেন, ভাবেননি।

শুক্রবার পর্যন্ত হড়পা বানে নেপালে ১ হাজার ২৮৭টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৫হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ। সূত্র : কাঠামান্ডু পোস্ট

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই : কাদায় চাপা পড়েছে সব

সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে : শফিকুর রহমান

বিএনপির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় অভিন্ন : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কাজীহাটা পুরাতন জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসক

দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে : পানিসম্পদ মন্ত্রী

‘বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে’: পরিবেশপ্রতিমন্ত্রী

ডিবি-পুলিশ পরিচয়ে সন্তান আটকের ভয়, টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র’

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার প্রত্যয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

১০

রাজশাহী-নাটোর রুটে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা

১১

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত সেই বৃদ্ধার মৃত্যু

১২

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী

১৩

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

১৪

মাত্র ৪৫ টাকা চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

১৫

শতবর্ষে উত্তম কুমার, তিনি বাঙালির মনের নায়ক : জয়া আহসান

১৬

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা এডিন জেকোর

১৭

১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যুক্তরাজ্যে নারী শিক্ষিকার বিচার

১৮

মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৬ সদস্য নিহত

১৯

রাজশাহীতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন

২০

Design & Developed by: BD IT HOST