৩ মার্চ ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

৩৫ হাজারের ইরানি ড্রোন ঠেকাতে ৪০ লাখ ডলার খরচ করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার, অথচ সেটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। মূলত এই বিশাল ব্যয়বৈষম্যই এখন পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে ইরান একযোগে ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। তেহরান প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ‘শাহেদ’ ড্রোন মজুত আছে। এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন তৈরির সক্ষমতা থাকায় তারা দীর্ঘ সময় এই হামলা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।

আরও পড়ুনঃ   নারী ফুটবলারদের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে : আসিফ মাহমুদ

২০২৫ সালের জুন মাসের লড়াইয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। সে সময় মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যা তাদের মোট মজুতের এক-চতুর্থাংশ। প্রতিটি থাড ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং এগুলো পুনরায় তৈরি করতে তিন থেকে আট বছর সময় লাগে। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘আমরা ইন্টারসেপ্টর তৈরির চেয়ে দ্রুত হারে তা ব্যবহার করে ফেলছি, যা মজুতকে দ্রুত শূন্য করে দিতে পারে।’

প্যাসিফিক ফোরামের উইলিয়াম আলবার্ক জানান, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টরের মজুত আগে থেকেই কম ছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এই যুদ্ধ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে ইরান যদি ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ট্রাম্পের দেওয়া সময়ের আগেই ইন্টারসেপ্টরের মজুত শেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তাসকিনের ‘সেঞ্চুরি’

বিপুল খরচ কমাতে পশ্চিমারা এখন ‘এপিকেডব্লিউএস’ গাইডেড রকেট এবং ইসরায়েলের ‘আয়রন বিম’ লেজার সিস্টেম ব্যবহারের কথা ভাবছে। লেজার সিস্টেমে প্রতি শটে খরচ মাত্র কয়েক ডলার হলেও বর্তমানে এর মাত্র এক-দুটি ইউনিট সচল আছে এবং তা কেবল ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ। সাবেক ইসরায়েলি নৌ কমান্ডার ইয়াল পিনকো সতর্ক করে বলেন, ইরানের কাছে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত রয়েছে এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা এখন সর্বাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঁচ দিন দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

শিবগঞ্জে যুবকের পায়ুপথ থেকে স্বর্ণের বার উদ্ধার

রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের জয়

তানোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পুঠিয়ায় কৃষিজমির টপসয়েল কাটায় অভিযান, এস্কেভেটর অকেজো

বড়াইগ্রামে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩

গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় মশার ভয়াবহ উপদ্রবে অতিষ্ঠ মানুষ, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আটক

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১০

মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

১১

অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

১২

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ১০ দিনে ৬৮৭ জন নিহত

১৩

জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন

১৪

এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ: প্রধানমন্ত্রী

১৫

জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে আমাদের কাজ করতে হবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৬

বিজিবি’র পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

১৭

নিয়ামতপুরে সরকারি বরাদ্দের খেজুর বিতরণ

১৮

আজ থেকে দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

১৯

প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ

২০

Design & Developed by: BD IT HOST