৯ নভেম্বর ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

বিশ মাসেও শেষ হয়নি ভবন, টিনের চালা ও ভাঙা বেঞ্চে পাঠদান 

পিন্টু আলী, চারঘাট : রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১টা। বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত নেই, পতাকাও টাঙানো হয়নি। অফিস রুমে বসে আছেন একজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী। পাশের রুমে রাখা হয়েছে নতুন ভবনের নির্মাণ সামগ্রী। ক্লাসরুম বলতে টিন দিয়ে ঘিরে চারটি ছোট ছোট খোপের মত ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানে নেই পর্যাপ্ত বসার জায়গা। অধিকাংশ বেঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

এমন বেহাল দশা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়টিতে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনরুম বিশিষ্ট একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। নতুন ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে পুরনো ক্লাসরুমগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ১২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ ২০ মাসেও কাজ শেষ করেনি ঠিকাদার। আবেদন করে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সময় আাবরও বাড়ানো হয়েছে। ফলে টিনের চালা তুলে চলছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম। এতে একদিকে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ক্লাস চালু রাখার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই ক্লাসরুম ভেঙে ফেলা হয়েছে। যে টিনের চালা তোলা হয়েছে সেখানে ভাঙা বেঞ্চে ক্লাস করার পরিবেশ নেই। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নতুন ভবনের কাজ শেষ করার বিষয়ে কোনো তাগাদাও দিচ্ছেনা কিংবা মাঠে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। বরং শিক্ষার্থীরা কম আসছে এ সুযোগে তারাও নিজেদের খেয়ালখুশি মত কখনও বিদ্যালয়ে আসছেন, কখনও আসছেন না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক ও আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এর আগে বিদ্যালয়টিতে দুটি পাকা টনের একতলা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। এর মধ্যে একটি ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ   জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধান উপদেষ্টা

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চারতলা বিশিষ্ট তিনরুমের একতলা ভবন, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কাজের অনুমোদন দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ১ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজের দায়িত্ব পায় বাঘা ফার্নিচার মার্ট নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী কাজের সময়সীমা ১২ মাস বেঁধে দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০ মাসেও কাজ শেষ করতে পারেনি। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নিলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবেনা বলছে সংশ্লিষ্টরা।

৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে এখন একটি ভবনের তিনটি রুম ভাল আছে। একটিতে অফিস, অন্যটি মেয়েদের কমনরুম ও আরেকটিতে ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। অথচ ওই রুমটি ফাঁকা থাকলেও আমরা ক্লাস করতে পারতাম। ঠিকমত ক্লাস না হওয়ায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি।

উম্মে কুলসুম নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, টিনের বেড়া ও চালা দিয়ে ছোট ছোট রুম করা হয়েছে। বসার মত উপযুক্ত পরিবেশ নেই, তীব্র গরমে ফ্যানও নেই। একপাশে ক্লাস চললে শব্দের কারণে আরেক পাশের শিক্ষার্থীরা শুনতে পায় না। এজন্য ক্লাসে তেমন কেউ আসেনা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এত কষ্ট করছি কিন্তু কোনো প্রতিকার নাই।

৮ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে যদি শিক্ষকদের নূন্যতম দায়িত্ববোধ থাকতো তবে বিকল্প ব্যবস্থা না করে ক্লাসরুম ভাঙতোনা। এক বছরের বেশি সময় ধরে এ অবস্থা চললেও তারা তেমন তাগাদা দিচ্ছেনা। ক্লাস না হওয়ায় নিজেরা খেয়ালখুশি মত আনন্দে দিন পার করছেন। যে অবস্থায় কাজ আছে আগামী ছয় মাসেও শেষ হবেনা।

আরও পড়ুনঃ   জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শতভাগ সাফল্য অর্জন রাসিকের

এ বিষয়ে বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফৌজিয়া খাতুন বলেন, আমরা তাগাদা দিচ্ছিনা কথাটা সঠিক না। শিক্ষার্থীরা রোদ গরমে খোলা পরিবেশে ক্লাস করতে পারছেনা এজন্য দ্রুত ভবনের কাজ শেষ করার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকেও জানিয়েছি। যেদিন পতাকা টাঙানো ছিলনা আর শিক্ষকরা ছিলনা সেদিন হয়তো আগেই পতাকা নামিয়ে ফেলা হয়েছিল। আর আমি একটু বাইরে ছিলাম সেজন্য কিছু শিক্ষকও হয়তো আগে চলে গেছে।

ঠিকাদার বাঘা ফার্নিচার মার্টের টুটুল আলী বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সেখানে পুরনো ভবনের পাশে গাছপালা থাকায় ভাঙতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এছাড়াও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেও কাজে বিঘ্ন হয়েছে। তবে বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রায়হান সোবহান বলেন, বিদ্যালয়ের কাজের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ঠিকাদারকে প্রতিনিয়ত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চারঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ রাহেদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ কাজের অযুহাতে পাঠদান না চলার কোনো সুযোগ নেই। পতাকা উত্তোলন না থাকা ও শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়েও নিযমিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, বাড়বে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নারী মাদক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

নগরীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান : মীর শাহে আলম

গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে সার মজুত, সার জব্দসহ ডিলারের কারাদণ্ড

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৭

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে শার্শায় প্রথম নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদ

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১০

চারঘাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

১১

মোহনপুরে দেশীয় তৈরী ৪৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার

১২

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

১৩

গোদাগাড়ীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় হেরোইন উদ্ধার

১৪

লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রসমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

১৫

পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৬

ইসলাম ও মাদ্রাসা নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিপূর্ণ পোস্ট, চারঘাটে শিক্ষক আটক

১৭

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বিএনপি কাজ করছে :রিজভী

১৮

রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা আবারও দেখার অভিযোগ

১৯

পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে সরকার কোনো গাফিলতি করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST