১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

ক্যারিশমেটিক লিডার মিনু, দেশের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র থেকে মন্ত্রী

মিজানুর রহমান মিনু।

অনলাইন ডেস্ক : সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বল্প সময়েই ঘনিষ্ঠ সখ্য গড়ে তোলার অসাধারণ মেধা রয়েছে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর। তার সহজ-সরল মিষ্টি হাসিতে খুব সহজেই সবাই তার প্রতি হন আকৃষ্ট।

মানুষের মন জয় করতে তার রয়েছে ব্যতিক্রমী প্রতিভা। দল-মত আর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্দ্বিধায় তার কাছে যেতে পারেন। এ কারণেই তিনি সবার কাছে প্রিয় ‘মিনু ভাই’ হয়ে উঠেছেন।

মাত্র ৩২ বছর বয়সেই মিনু হয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র। দায়িত্বে ছিলেন একটানা ১৭ বছর। এর আগে ২০০১ সালে মেয়র থাকা অবস্থাতেই সারা দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রাজশাহীর প্রিয় মুখ মিনুকে নির্বাচিত করেছেন ভোটাররা। আর এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর পূর্ণমন্ত্রী হয়ে তাক লাগালেন ক্যারিশমেটিক মিনু।

মিজানুর রহমান মিনু ১৯৫৮ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। দলকে শক্তিশালী করতে মিনু বাইসাইকেলে দূর-দূরান্তে নিরবচ্ছিন্নভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। হয়েছেন নানা সময় হামলা এবং মামলার শিকার। থেকেছেন কারাগারে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাগোদল প্রতিষ্ঠা করলে মিনু সেখানে যোগ দেন। পরে তিনি যুবদলের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হন। এরপর যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সামলিয়েছেন মিনু। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা।

আরও পড়ুনঃ   জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

মিজানুর রহমান মিনু ১৯৯১ সালের ২১ মে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে রাজশাহীর মেয়র নির্বাচিত হন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এরপর তিনি আবারও দুবার মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

মেয়র থাকাকালে মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিছিয়ে থাকা রাজশাহীর দৃশ্যমান উন্নয়নে রাখেন অনন্য ভূমিকা।

২০০৪ সালে ইউনেস্কো রাজশাহীকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মহানগরী হিসেবে ঘোষণা করে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিনুকে ব্যতিক্রমী উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ১৯৯১ সালের পর রাজশাহী শিক্ষানগরী হিসেবে যে পরিচিতি পায়, তার পেছনেও সাবেক মেয়র মিনুর অবদান ছিল অসামান্য। এজন্য মিনুকে আধুনিক রাজশাহীর রূপকার বলা হয়। আর এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মিনু সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক হিসেবে আস্থা অর্জন করেন। জয় করে নেন সাধারণ মানুষের মন।

মিনুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, উত্তরাঞ্চলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে মিজানুর রহমান মিনুর সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ আর সাহসী ভূমিকা আমাদের জন্য অনুসরণীয়। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও সহানুভূতি দলকে যেমন শক্তিশালী করেছে- তেমনি সাধারণ মানুষেরও অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, তার নেতৃত্বে এ অঞ্চল আবারও উন্নয়নের ছন্দে ফিরবে।

আরও পড়ুনঃ   বাঘায় সরেরহাট কল্যাণী শিশুসদন ও বৃদ্ধা নিকেতনের খাবার ঘর-এর ভিত্তি প্রস্তর করেন এমপি চাঁদ

এদিকে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু পুনরায় রাজশাহী-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনি প্রচারে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। বরাবরের মতো মিনুর এ প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখেন সাধারণ ভোটাররা। এ নির্বাচনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী ডা. জাহাঙ্গীরকে পরাজিত করেন।

সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় মিজানুর রহমান মিনুকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছিলেন এমরান আলী সরকার। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর আবার রাজশাহী সদর আসন থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।

রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহবায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, মিজানুর রহমান মিনুর কাছে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ যেতে পারেন। তার কাছে যেকোনো ধরনের সমস্যার বিষয়ে সাবলীলভাবে বলতে পারেন। মিনু সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন। কেউ তার কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরেন না। এটিই মিনুর বড় ম্যাজিক।

তিনি বলেন, এসব কারণেই মিনুকে সব শ্রেণীর মানুষ দলমতের ওপরে রেখেছেন। তিনি রাজশাহীসহ দেশব্যাপী ক্যারিশমেটিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পেয়েছেন সফলতা। মিনুর প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আশা করছি, অতীতের মতো তিনি এ অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সফল হবেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহীতে ফিরতি যাত্রা শুরু, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক

রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অমর জিয়া

জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, রাজশাহীর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

বেঙ্গালুরু নাকি গুজরাট: শেষ হাসি হাসবে কে?

হিজাব পরায় তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী

ভিক্ষা করছেন অভিনেত্রী মিতালি!

১০

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে জুট মিলে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

১১

ভ্রাম্যমাণ অভিযান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

১২

৩ মাসের জন্য বন্ধ সুন্দরবনের দুয়ার

১৩

ফ্রান্সে উদ্দাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ উদযাপনের পর ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার

১৪

ঈদের ছুটি শেষে অফিস খুলছে কাল

১৫

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৬

তানোরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

১৭

রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাস ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

১৮

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৯

জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

২০

Design & Developed by: BD IT HOST