৩০ মার্চ ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

সরকারের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজশাহীতে চলছে পুকুর ভরাট!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন দায়রাপাকের মোড় মেহেরেচন্ডি এলাকায় রাস্তার পাশেই অবৈধভাবে একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৪ বিঘা আয়তনের পুকুরটি ভরাট করতে গত সোমবার (২৫ মার্চ) রাত থেকেই কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। আইন অনুযায়ী রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় পুকুর-জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ; তার পরও আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে অবৈধ এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অজ্ঞাত কারণে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, পুকুর ভরাটের দায়ীত্বে থাকা নগরীর মতিহার থানাধীন মোহনপুর এলাকার ছানা ও লালন বলেন, ২০২০ সালে ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা মুল্যে সাড়ে ৮ বিঘা আয়তনের পুকুরটি ক্রয় করেছেন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ১১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তবে মালিকানায় কারা রয়েছেন এব্যাপারে মুখ খুলছেন না তারা। পুকুরটি ভরাট করতে প্রভাব কাটাচ্ছেন একজন জেলা প্রশাসক। কিন্তু কোন জেলার ডিসি তাও বলছেন না ভরাটের দায়ীত্বে থাকা ছানা ও লালন।
আইন অমান্য করে কেন পুকুর ভরাট করা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ছানা বলেন, পুকুরের শ্রেনী পরিবর্তণ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে অনেকগুলো মালিক রয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর আর কোনো কথা না বলেই তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে খবর পেয়ে ওই দিন রাতেই চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুর ভরাটের দাযীত্বে থাকা ছানা ও লালন গত সোমবার রাত থেকেই সেটি ভরাটের লক্ষ্যে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ শুরু করেন। এক দিকে স্যাল মেশিন দিয়ে পুকুরের পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। আরেক দিকে ড্রাম ট্রাকে করে বালু নিয়ে এসে পুকুর পারে রাস্তার ওপর ফেলা হচ্ছে। অন্য দিকে হুইল লোডার মেশিন দিয়ে রাস্তার ওপর পড়ে থাকা বালুগুলো নামিয়ে দেয়া হচ্ছে সেই পুকুরে। রাতে পুকুরটির কিছু অংশ ভরাট হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
পুকুরটি মাছ চাষের জন্য পুর্বের মালিক গোলাম মওলা ও তার শরিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন মেহেরচন্ডী এলাকার সোহেল রানা। তিনি জানান, গত ৬ বছর থেকে পুকুরটিতে তিনি মাছ চাষ করেন তাকে না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করেছেন পুকুর মালিকরা।

আরও পড়ুনঃ   রাজশাহীতে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জীন হেনরি ডুনান্টের ১৯৬তম জন্মবার্ষিকী পালন

প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আমার খরচ হয়। রাতের আধারে এভাবে পুকুর ভরাট হলে আমি ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়ব।
তিনি আরও বলেন, এর আগে আব্দুল হালিম নামের এক ব্যক্তি পুকুর পারে একটি ব্যানার দিয়ে ছিলেন। তবে কে বা কাহার ব্যানারটি তুলে ফেলে। কাগজ কলমে পুকুরের আয়তন সাড়ে ৪ বিঘা, সরেজমিনে তা হয়ে আছে সাড়ে ৮ বিঘা। গোলাম মওলা ছাড়াও অন্যান্য মালিকদের বাৎসরিক খাজনা দিতে হয়।

রাজশাহী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, এর আগে মেহেচন্ডি এলাকায় ওই পুকুর ভরাটের অভিযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়। আইন অনুযায়ী পৌর অথবা সিটি করপোরেশন এলাকার ভেতরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জলাধারের আকার পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তার পরও রাজশাহীতে অব্যাহতভাবে চলছে পুকুর-জলাধার ভরাট। এতে চরমভাবাপন্ন ও বিরূপ আবহাওয়ার শিকার হচ্ছেন মানুষ। যে ক’টি জলাশয় রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে ভবিষ্যতে কোনো স্থানে আগুন নেভানোর পানি পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্র জানায়, নগরীতে ১২০টি পুকুরের মধ্যে কর্তৃপক্ষ মাত্র ২২টি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি দুই একরের বেশি আয়তনের ২২টি পুকুর সরকারিভাবে সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন অন্য পুকুরগুলোর বিষয়ে রাসিকের কোনো বক্তব্য নেই।

আরও পড়ুনঃ   বিপিজেএ রাজশাহী শাখার নির্বাচনে সভাপতি তোতা,সাধারণ সম্পাদক সামাদ

দী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এর আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) একটি প্রচারপত্র বিলি করেছিল। ওই প্রচারপত্রে বলা হয়, নগরীতে কেউ পুকুর ভরাট করতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে। এমনকি কেউ অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের বিষয়ে টেলিফোনে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র এর বিপরীত। আরডিএ কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আরডিএ’র সহকারী নগর পরিকল্পক মো. সাদরুল আনাম ফোন না ধরায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়গুলি দেখেন এসি ল্যান্ড ও ইউএনও মহদয়। তাদের কোন লিখিত নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, পুকুর ভরাটের সাথে যারাই জড়িত থাকুক, আইনের উর্ধ্বে কেউই নয়। এ বিষয়ে তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

অঞ্জনস ইন্টারন্যাশনাল র‌্যাপিড দাবায় মিনহাজের শিরোপা জয়

ভাঙ্গায় কৃষকদের মাঝে বিনামুল্যে ধান বীজ, সার ও গাছের চারা বিতরণ

মাদক কারবারিদের ঘৃণা ও সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনা বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজশাহী ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচন ২৭ জুন

১০

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই

১১

বুধপাড়া আলিম মাদ্রাসার নতুন ৪র্থ তলার ভবনের উদ্বোধন

১২

গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

১৩

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

নগরীতে ইসকাফ সিরাপসহ ডিবির হাতে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

১৫

নগরীতে অ্যালকোহল ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

১৬

রাবির সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া

১৭

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৮

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

১৯

রাজশাহীতে ৪৯ বোতল ইসকাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

২০

Design & Developed by: BD IT HOST