
স্টাফ রিপোর্টার : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, মাদক কারবারের মাধ্যমে যারা হঠাৎ অঢেল সম্পদের মালিক হচ্ছে এবং বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করছে, তারা মূলত জাতির শত্রু। এসব সমাজবিরোধীকে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট ও তাদের ঘৃণা করতে হবে।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবলে একটি সম্ভাবনাময় জাতির সম্পদ, একটি পরিবারের প্রত্যাশা এবং একটি মেধাবী জীবনের দীর্ঘদিনের সাধনা মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। একটি পরিবার বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সন্তানকে গড়ে তোলে, কিন্তু মাদকের নেশায় সেই সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি চীনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একসময় দেশটির মানুষ আফিমের নেশায় ব্যাপকভাবে আসক্ত ছিল। কিন্তু দূরদর্শী নেতৃত্বের আহ্বানে তারা সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আজ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজকেও একইভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কারণ তারাই আগামী দিনে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে।
সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশের মতো আরও কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রাজশাহীতে মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে র্যািব সদর দপ্তরের পাশে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র এবং শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক উৎপাদনকারী চক্রগুলো থেকে বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর, সতর্ক ও তৎপর থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবীর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী।
এর আগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় হতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST