২৮ অগাস্ট ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

নিয়ামতপুরে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে কৃষক

বোরো ধান বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারের আড়তে নিয়ে যান।

সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর প্রতিনিধি : কৃষক টিপু মন্ডলের আমন খেতে সার ও কীটনাশক দেওয়া দরকার। প্রয়োজন টাকার। এজন্য বোরো ধান বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারের আড়তে নিয়ে যান। তবে সেই ধান বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ধান ব্যবসায়ীরা ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন।

কৃষক টিপু মন্ডলের মতো নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার অনেক কৃষক ধান বিক্রি করতে না পারায় বিপদে পড়েছেন।

কৃষকরা বলছেন, আড়তে ধান নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা কিনতেই চাচ্ছেন না। অনেকে নিতে চাইলেও দাম কম বলছেন। আবার অনেক শুধু ভালো মানের ধান কিনছেন। মান খারাপ হলে কিনছেন না।
আর ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলাররা তাঁদের কাছ থেকে ধান না কেনায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার নিয়ামতপুর সদর, ভাবিচা, গাবতলী, ছাতড়া, টগরইল-ঘুঘুডাঙ্গা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেশির ভাগই ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছেন না। অনেকে কিনলেও ধানের মান দেখে কম দামে অল্প পরিমাণে কিনছেন।

আরও পড়ুনঃ   ডিআইজি থেকে এসপি পদমর্যাদার ৮৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

ভাবিচা গ্রামের কৃষক টিপু মন্ডল বলেন, আমন ধানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য বাজারে বোরো ধান বিক্রি করতে গেছিলাম। গিয়ে শুনি- বেশিরভাগই আড়তদাররা ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন। অনেকে অল্প দামে কিনছেন।

গত কয়েকদিন আগে উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের একজন কৃষক ভাবিচা বাজারে ধান বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কোনো আড়তদার সেই ধান কিনতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে মান্দা উপজেলার কালিতলা বাজারে গিয়ে বিক্রি করে এসেছেন।

নিয়ামতপুর সদরের ধান ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, গত এক মাস থেকে মিলাররা আমাদের কাছে থেকে ধান কিনছেন না। আমরাও মিলারদের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছি না। মিলাররা আগের বাকী টাকাও আমাদের পরিশোধ করছেন না। তাই আমরাও ধান কিনতে পারছি না।

গাবতলী বাজারের ধান ব্যবসায়ী মোঃ টুটুল বলেন, মিলাররা আমাদের কাছ থেকে ধান না কেনায় আমরাও কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারছি না।

আরও পড়ুনঃ   পাকিস্তান-আরব আমিরাত সিরিজের আগে ক্যাম্প করবে টাইগাররা

ভাবিচা বাজারের ধান ব্যবসায়ী সুমন প্রাং বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে গত কয়েকদিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মিলে পাঠিয়েছিলেন। ধানের মান খারাপ বলে মিল কর্তৃপক্ষ কিনতে রাজি হননি। তিনি ধান ফেরত এনেছেন। এতে তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা লস হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত ধাননির্ভর। ধান বিক্রি করতে না পেরে চাষিরা খুবই বিপাকে আছেন। কৃষকেরা অনেক কষ্ট করে ফসল ফলান। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারলে ও কাঙ্খিত দাম না পেলে তারা খুব হতাশ হন। ধান কেনা-বেচা যদিও কৃষি বিভাগীয় সম্পর্কিত নয়। তিনি এসমস্যার আশু সমাধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিয়ামতপুরে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে কৃষক

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ প্রবাসীর একসঙ্গে জানাজা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার আশঙ্কা : উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

ভূমিকম্পে কাঁপল চীন, নেপালে উচ্চ সতর্কতা জারি

নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ ১,৪০০

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল : সিইসি

নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বদলে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম

রাজশাহীর পবাতে ভাতিজার হাঁসুয়ার কোপে চাচা নিহত

রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে হাইটেক স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ

১০

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান

১১

রাজশাহীতে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে চার দিনব্যাপী মেলা

১২

রুয়েটে প্রযুক্তি ও কুলিং সিস্টেমে ন্যানোফ্লুইডের ভূমিকা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৩

৪ হাজার এসআই, ৪ হাজার সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের পরিকল্পনা

১৪

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

১৫

অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব : এলজিআরডি মন্ত্রী

১৬

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে আজ

১৭

সার সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা : রাজশাহীর ডিসি

১৮

জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান রাজশাহীতে স্থাপনে আগ্রহ

১৯

মায়েদের হাতেই শিশুর পুষ্টি: শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প : ববি হাজ্জাজ

২০

Design & Developed by: BD IT HOST