
ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমন কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার মিলন শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসানদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। রাত পৌনে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কুমার নদের দুই পাড়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং বেশ কয়েকটি গুলির আওয়াজ শোনা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হন।
নিহত সুমনের বন্ধু ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ে এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সুমনের মৃত্যুর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, একজন যুবকের আহত হওয়ার কথা শুনেছি। তবে তার কীভাবে কোন ধরনের গুলি লেগেছে তা তদন্ত করে পরে বলতে পারব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে বর্তমানে তিনি নিজে ভারী পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST