১ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অপরিবর্তিত থাকল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ কার্যকর হলো না।

আদালত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন জারি করা নির্বাহী আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসী কিংবা সাময়িক ভিসায় অবস্থানরত বিদেশিদের সন্তানরা আর জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না।

এটি চলতি বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আদালত বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বিস্তৃত শুল্কনীতিও বাতিল করে দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং তিনজন উদারপন্থী বিচারপতিসহ মোট পাঁচ বিচারপতি মত দেন যে মার্কিন সংবিধান জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করে। অন্যদিকে বিচারপতি ব্রেট কাভানো সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান নিলেও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে ফেডারেল আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অবৈধ ঘোষণা করার পক্ষে মত দেন।

আরও পড়ুনঃ   বাংলাদেশ সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করছে ভারত

রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টস ট্রাম্প প্রশাসনের সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কেবল স্থায়ী বাসিন্দা বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যশীল ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য। রবার্টস বলেন, কংগ্রেস যদি নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করতে চাইত, তবে সংবিধানের ভাষাতেই তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হতো।

মামলার শুনানির সময় থেকেই ট্রাম্প নিজের পরাজয়ের সম্ভাবনা উপলব্ধি করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। গত এপ্রিল তিনি সুপ্রিম কোর্টে মৌখিক শুনানিতে সরাসরি উপস্থিত হন, যা ক্ষমতাসীন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। শুনানির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের সমালোচনা করলেও পরে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মতো বিচারব্যবস্থাও পক্ষপাতদুষ্ট এবং এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে। তাদের মতে, অনেক অভিবাসী এই আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসে যে সেখানে জন্ম নেওয়া সন্তান ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের সুবিধা পাবে। রিপাবলিকানদের একটি অংশ আরও অভিযোগ করেছে, এ কারণে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বেড়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস ও নিল গোরসুচ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়ে ভিন্নমত দেন। পৃথক মতামতে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো বলেন, বিষয়টি সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ব্যাখ্যার মাধ্যমে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

আরও পড়ুনঃ   জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবাঞ্চিত ঘোষণা ইসরায়েলের

অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি প্রায় ১৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো ও সামাজিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বাতিল হলে প্রতিটি নবজাতকের বাবা-মায়ের অভিবাসন ও আইনি অবস্থান যাচাই করতে গিয়ে প্রশাসনকে জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হতো। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাব কার্যকর হলে শুধু নতুন জন্ম নেওয়া শিশুই নয়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বহু মানুষের নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান নিয়েও ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সূত্র: সিএনএন

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মান্দায় মোবাইল কোর্টে যুবকের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

বড়াইগ্রামে এক দুর্ঘটনায় একই মহল্লার ৩ জন সহ নিহত ৪

বাঘায় অগ্নিকাণ্ডে নগদ অর্থসহ ৯ টি ঘর পুড়ে ছাই, নি:স্ব ৩ পরিবার

মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে নগরীতে দোয়া ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ

নওগাঁর ধামইরহাট থেকে হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

জয়পুরহাটে ধর্ষন মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

নগরীতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

মাস্তুল ফাউন্ডেশন আত্মমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে – ভূমিমন্ত্রী

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী ও ১ মাদকসেবী গ্রেপ্তার

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৪

১০

শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে : ট্রাম্প

১১

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ২০, হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

১২

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

১৩

শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

১৪

নগরীতে ছাত্রীকে ইভটিজিং ও হয়রানির ঘটনায় ১ ঘণ্টার মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার 

১৫

নাটোরর সিংড়ায় ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

১৬

আই.এইচ.টি ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সাধারণ সভা

১৭

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২০

১৮

দুই হাত হারিয়েও থামেনি, মুখ দিয়ে লিখে দাখিল পাশ করলো রিয়াদ

১৯

রাজশাহীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্বশুর ও পুত্রবধূর মৃত্যু

২০

Design & Developed by: BD IT HOST