স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় কয়েকদিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে মোটরসাইকেল চালক ও যানবাহন শ্রমিকরা। পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি বেশ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বুধবার ২৫ মার্চ বাঘা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ঐতিহাসিক বাঘার মেলায় ঘুরতে এসে তাদের মোটরসাইকেলে তেল শেষ হওয়ার কারণে তারা বিপাকে পড়েছে। অথচ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ। তেলের আশায় অনেকেই পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন।
সূত্রে জানা গেছে, বাঘার মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানীতে অন্তত পাঁচটি জ্বালানি ডিপো রয়েছে। এসব ডিপোতে গভীর রাতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফলে দিনের বেলায় সাধারণ মানুষ জ্বালানি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিন গুণ বেশি।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও পরিবহন শ্রমিকরা। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। একই সাথে পরিবহন সেক্টরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক স্থবিরতা। একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানান, পাম্পে জ্বালানি নেই, অথচ বাইরে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলেন, এই সময় ধানের জমিতে সেচ দিতে না-পারলে ব্যপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, অধিক মুনাফালোভী অসাধু একটি সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে , বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জ্বালানি সংকট রোধে বাজার মনিটরিং, নজরদারি বৃদ্ধি ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। তাই ভোগান্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তারা।
বাঘা পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশন এর মালিক লুৎফর রহমান বলন, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রেখেছেন। বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিয়ম রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST