
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ভোটের চিত্র দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, ভোটারদের সাড়া এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবার বাগমারায় দাঁড়িপাল্লার একটি সুস্পষ্ট ও ভূমিধ্বস বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার সম্প্রতি এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, “মানুষ অশান্তি চায় না, মানুষ শান্তি চায়। যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, তাতে বাগমারায় দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।”
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নির্বাচনী আলোচনায় নতুন গতি আসে। ডা. আব্দুল বারীর এই আত্মবিশ্বাসকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় ভোটাররা। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় তিনি এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। অসুস্থতা, দুর্যোগ কিংবা জরুরি মুহূর্তে সরাসরি পাশে পাওয়া এই চিকিৎসককে এবার সংসদে পাঠাতে চান—এমন মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই। ছোট-বড় সবার মুখে এখন একটাই উচ্চারণ—দাঁড়িপাল্লা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের আয়তন ৩৬৬ বর্গকিলোমিটার। ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ভোটারের একটি বড় অংশ ভাসমান, যাদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বাগমারা আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আব্দুল বারী সরদার, নাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকে তাজুল ইসলাম। তবে মাঠের বাস্তবতায় অন্যদের তুলনায় দাঁড়িপাল্লার জনসমর্থন ও সাংগঠনিক উপস্থিতি বেশি দৃশ্যমান বলে জানান স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী রেজনিং অফিসার মাহবুবুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১২২টি ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য ১২২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭০৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪০৬ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আনসার ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সময়মতো পৌঁছানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সেই সাথে উপজেলা জুড়ে থাকবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিজিবি সদস্যরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাগমারার ভোটাররা সাধারণত এলাকার মাতব্বর, আত্মীয়-স্বজন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিলেও এবার সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, সামাজিক অবদান, গ্রহণযোগ্যতা ও শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। এসব সূচকে ডা. আব্দুল বারী অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলেই মনে করছেন তারা।
সব দিক বিবেচনায় ভোটের মাঠে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, জয়ের ব্যবধান কত বড় হবে? বর্তমান জনসমর্থনের ধারা অব্যাহত থাকলে রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনে দাঁড়িপাল্লার একটি স্পষ্ট ও সম্মানজনক ভূমিধ্বস বিজয় প্রায় অনিবার্য বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST