
স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিগত পনেরো বছর জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ দেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিক দল ও সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষক, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নির্বাচনকে পর্যবেক্ষণ করবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে।
একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য জনগণ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দিকে তাকিয়ে আছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আপনারা এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করবেন যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হবে। আপনাদের সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে আপনারা যে-কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থাকবেন। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব বাস্তবায়ন করবেন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এখন থেকেই কেন্দ্রভিত্তিক সন্ত্রাসী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার টহল চালু করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র যে সব কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সে বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের এখনই মোক্ষম সময়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি, দল বা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কেউ জড়িত হবেন না। আপনারা কোনো বেআইনি কাজ করবেন না। আন্ডার কমান্ডদের কোনো বেআইনি আদেশ দেবেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বেআইনি আদেশ মানবেন না। আগামী নির্বাচনে আপনাদের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ন্যূনতম পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। কারো বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে যারা নীতি বিবর্জিত কাজ করবে, লোভের বশঃবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবে এবং দায়িত্বে অবহেলা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগ ও নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২০২৫ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার, গোয়েন্দা সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার, কোস্টগার্ড সহ বিচারিক ও ভ্রাম্যমান আদালত সকলেই পেশাদারিত্বের সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে সমন্বয়, তথ্য আদান প্রদান ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনে যারা অনিয়মের সাথে জড়িত ছিল, দলকানা কিংবা বিতর্কিত তাদের দায়িত্বে নিয়েজিত করা যাবে না।
এসময় নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে পালনের জন্য অধীনস্থ সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করতে আহ্বান জানান তিনি।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করছে না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। কোন প্রার্থী অশোভন আচরণ করলে, তা সমাজে প্রকাশ পেলে এমনিতেই কোনঠাসা হয়ে যাবে। বেশি কিছু করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্ততি ভালো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র নিয়মিত উদ্ধার হচ্ছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
রাজশাহী বিভাগের জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST