
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি—অন্যায়ের বাধা পাহাড় কিংবা পর্বত যা-ই সামনে আসুক, আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। আগামীতে দেশকে বীরের দেশে পরিণত করা হবে। কাউকে প্রভু মানব না, একমাত্র আল্লাহকেই প্রভু মানব।’
তিনি বলেন, ‘সব মিল-ফ্যাক্টরি সচল করে তোলা হবে। চুরি-চামারি ও লুটপাট বন্ধ করে দেওয়া হবে, কোনো অবস্থাতেই লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকেও আশ্রয় দেবেন না। গরিব-ধনী, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষের বিচার করে শাস্তি দেওয়া হবে। একইভাবে রাষ্ট্রপতিও যদি অন্যায় করেন, তাকেও আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট। যারা বস্তাপচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চান, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। মাথা গরমের কিছু নেই—রাজনীতি হলো নীতির খেলা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রুহুল আমিন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন: কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল।
জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদ। নির্বাচনি জনসভায় টাউন ফুটবল মাঠ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। মাঠ ছাড়িয়ে সড়কেও বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
নির্বাচনি জনসভা শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গার দুইটি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী রুহুল আমিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনি আপনার নীতি নিয়ে এসেছেন, তিনি তার নীতি নিয়ে এসেছেন। সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিন। জনগণ যাকে পছন্দ করবে তাকে গ্রহণ করে নিতে হবে এবং সম্মান দেখাতে হবে। আমরাও তাকে সম্মান জানাব। চুয়াডাঙ্গার জনগণ যদি আমাদের ওপর আস্থা রেখে দুইটি আসনে ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করেন তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। যে পাঁচ বছরের জন্য রায় দেবেন সে সময়ের মধ্যে সেই ঋণ পরিশোধে আমরা সচেষ্ট থাকব।’
প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার মানুষ ও ভোটারদের কাছে আমরা রাসেল ও রুহুলকে দিয়ে গেলাম। এখন সব দায়িত্ব আপনাদের। তাদের বিজয়ী করতে সবাই একসাথে কাজ করবেন।’
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST