১ নভেম্বর ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

ভয় দেখাবেন না, আল্লাহর নামে কতল হয়ে যাবো : ফরহাদ মজহার

অনলাইন ডেস্ক : লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, অনেকে বলেন বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম করতে হলে ফরহাদ মজহারকে নাকি কতল (হত্যা) করতে হবে। আমি কিন্তু বিষয়টা জেনে গেছি। আমাকে যেখানে বলবেন আমি যাব, আমাকে কতল করে ফেলবেন। আমাকে কতল করলে যদি ইসলাম কায়েম হয় তবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর নামে কতল হয়ে যাবো। আমাকে ভয় দেখাবেন না। কিন্তু ফ্যাসিজমকে ইসলাম বলে প্রচার করবেন না। আপনারা কোথা থেকে আসেন, সেটা আমরা জানি। আপনাদের কারা পাঠায়, সেটাও আমরা জানি।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘দুর্নীতি ও রাষ্ট্রপতি বা সংস্কার’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি তবে জনগণকে উপেক্ষা করে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরেও জনগণকে উপেক্ষা করি, এটা অদ্ভুত ব্যাপার। এতগুলো মানুষ শহীদ হয়ে গেল, এতগুলো মানুষ পঙ্গু হয়ে পড়ে আছে, তারপরেও কিন্তু আমরা জনগণকে উপেক্ষা করেছি। আপনি ধরে নিচ্ছেন তথাগত রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতিনিধি। এটা ঠিক নয়।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সংবিধান শব্দটা সঠিক নয়। এটা ঔপনিবেশিক শক্তি ব্যবহার করে। তারা যাদেরকে শাসন করবে, তাদের শাসন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়। এটাকেই বলা হয় সংবিধান। কনস্টিটিউশনের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে গঠন। কনস্টিটিউশনের লিগ্যাল এবং পলিটিক্যাল অর্থ হচ্ছে যুগপৎ। আপনারা কনস্টিটিউশন শব্দটা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এটার ব্যবহার ইংরেজ আমল থেকে শুরু হয়েছে। আমি একটা আইন দেব, সে আইনের দ্বারা আমি শাসন করব। আপনি শাসিত এবং আমি শাসক। গণতন্ত্রে শাসিত এবং শাসক বলে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। গণতন্ত্রে জনগণ নিজের শাসক। আইন এবং রাজনীতির সম্পর্ক আমরা বুঝি না বলে এবার গণঅভ্যুত্থানটা ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হওয়াটা জরুরি ছিল। যাতে আমরা টের পাই আমাদের অজ্ঞতা, আমাদের বেহুঁশ অবস্থা, এটা আমাদেরকে ভুল দিকে নিয়ে যাবে। আমরা বারবার সংস্কার সংস্কার বলছি। আপনি তো বাড়িই গঠন করেন নাই, সংস্কার কীভাবে করবেন?

আরও পড়ুনঃ   হারানো মোবাইল ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিকরা

তিনি বলেন, ৭২ সালে আপনি যাদের পাকিস্তানের গঠনতন্ত্র বানানোর জন্য ভোট দিয়েছেন, তারাই ফিরে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করল। তারা শাসন করতে যেটা চেয়েছে সেটাই করেছে। তারা সমাজতন্ত্র ঢুকিয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকিয়েছে। ওদের যে মতাদর্শ যেটাকে আমরা ফ্যাসিজম বলি। এটা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে এতটা বছর শাসন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বুঝানোর চেষ্টা করেছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধারণ করেছি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য মানবিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার।

আরও পড়ুনঃ   জাকসু নির্বাচন, শিক্ষক জান্নাতুলের মৃত্যুতে ভোট গণনা কক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মীরা

এই লেখক বলেন, আপনি একটা গণঅভ্যুত্থান করেছেন। কোনো অভ্যুত্থানে কখনও শপথ করা লাগে না। আপনি যদি শহীদ মিনার বা রাজু ভাস্কর্যের সামনে শপথ গ্রহণ করতেন তাহলে যারা শহীদ হয়েছে, যারা পঙ্গু হয়েছে, তাদের যথার্থ মর্যাদা আপনিই দিতে পারতেন। যখনই আপনি বঙ্গভবনে ঢুকেছেন তখনই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তারই কিন্তু কুফল প্রত্যেকটা দিন আপনারা দেখছেন। এর কুফল আপনারা আগামী দিনেও দেখতে পারবেন। এটা বারবার বিভিন্নভাবে আসবে।

তিনি বলেন, আপনারা সরকারের দুই একটা সংস্কার নিয়ে কথা বলছেন। এটা কিন্তু এখনকার আলোচনার বিষয় না। সরকারে আজকে একজন আছে আগামীকাল আরেকজন থাকবে। মূল বিষয়টা হচ্ছে রাষ্ট্র গঠন করা। আপনার এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রের মধ্যে আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের অন্তর্গত। আমাদের অভিপ্রায়টা সার্বজনীন থাকতে হবে। আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চাই যেটা আমাদের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করবে। আমার জীবন ও ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদা হরণ করতে পারবে না। একটা গঠনতন্ত্র তৈরি করা খুব কঠিন কাজ না।-ঢাকা পোস্ট

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না : অর্থমন্ত্রী

‘২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন’

মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়ল ‘ওয়েলকাম ৩’

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই এমপিকে সরালেন মমতা

আর কোনও হামলা নয়, বললেন ট্রাম্প

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরছে ‘৭-১’ গোলের স্মৃতি

তানোরে এফএইচ এর উদ্যোগে নিবন্ধিত শিশুদের হাতের লেখা প্রতিযোগিতা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু-সহনশীল নগর গঠনের দাবি

গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ

পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক! কমছে কৃষি জমি

১০

বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তাগিদ ভূমি মন্ত্রীর

১১

নগরীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

১২

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৭

১৩

রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

১৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার ১

১৫

দূর্গাপুরে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী আকাশ গ্রেফতার

১৬

অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত

১৭

আর্জেন্টিনার ৯ ফুটবলার পাচ্ছেন ফিফার বিশেষ উপহার

১৮

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করলেন ভূমিমন্ত্রী

১৯

কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে : আরিফ পাশা

২০

Design & Developed by: BD IT HOST