নাটোর গণভবনে আবারও বসবে মন্ত্রিসভা!







স্টাফ রিপোর্টার : নাটোরের উত্তরা গণভবনে আবারও বসে পারে মন্ত্রী পরিষদের সভা। সে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এজন্য সংস্কারও করা হয়েছে গণভবন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, এক সময়ে উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। আবারও এখানে মন্ত্রিপরিষদের সভা করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি অনুমোদন করলে এখানে নিয়মিত বসতে পারে মন্ত্রিসভা। আমি চেষ্টা করছি এখানে মন্ত্রিপরিষদের সভা করানোর।

জানা যায়, দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির নাম পরিবর্তন করে ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে নামকরণ করেন। এর ঠিক একমাস পরে বঙ্গবন্ধু উত্তরা গণভবনের মূল প্রাসাদের ভেতরে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। সেই থেকেই ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বাসভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল, সজিব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ সপরিবারে গণভবনে আসেন বঙ্গবন্ধু। এরপর কয়েক দফায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে অবহেলিতই থেকে গেছে উত্তরা গণভবন।

উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতি বিজড়িত দৃষ্টিনন্দন উত্তরা গণভবনে অতীতের ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের মাধ্যমে উত্তরা গণভবন নামকরণের স্বার্থকতা ও গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এটার নামকরণের ৫২ বছরও পার হয়েছে।

দিঘাপতিয়ার রাজপরিবার ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে গভর্নর হাউজ হিসেবে ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্থানের গর্ভনর মোনায়েম খান। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী উত্তরা গণভবনকে উত্তরাঞ্চলীয় হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করে।

ইতিহাসমতে জানা যায়, নাটোরের উত্তরা গণভবন আঠারো শতকে দিঘাপতিয়া মহারাজাদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ১৭৩৪ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদনাথ রায় সম্পূর্ণ প্রাসাদটি পুনঃনির্মাণ করেন। চারদিকে সীমানা প্রাচীরবেষ্ঠিত ৪২ একর জমির ওপর রাজবাড়ির ভেতর বিশেষ কারুকার্যখচিত উত্তরা গণভবনের মূল ভবনসহ ছোটবড় মোট ১২টি ভবন নির্মিত হয় সেসময়।


Your email address will not be published. Required fields are marked *

Zeen is a next generation WordPress theme. It’s powerful, beautifully designed and comes with everything you need to engage your visitors and increase conversions.

Zeen Subscribe
A customizable subscription slide-in box to promote your newsletter
[mc4wp_form id="314"]