১০ মার্চ ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

নাটোর গণভবনে আবারও বসবে মন্ত্রিসভা!







স্টাফ রিপোর্টার : নাটোরের উত্তরা গণভবনে আবারও বসে পারে মন্ত্রী পরিষদের সভা। সে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এজন্য সংস্কারও করা হয়েছে গণভবন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, এক সময়ে উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। আবারও এখানে মন্ত্রিপরিষদের সভা করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি অনুমোদন করলে এখানে নিয়মিত বসতে পারে মন্ত্রিসভা। আমি চেষ্টা করছি এখানে মন্ত্রিপরিষদের সভা করানোর।

জানা যায়, দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির নাম পরিবর্তন করে ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে নামকরণ করেন। এর ঠিক একমাস পরে বঙ্গবন্ধু উত্তরা গণভবনের মূল প্রাসাদের ভেতরে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। সেই থেকেই ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বাসভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল, সজিব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ সপরিবারে গণভবনে আসেন বঙ্গবন্ধু। এরপর কয়েক দফায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে অবহেলিতই থেকে গেছে উত্তরা গণভবন।

আরও পড়ুনঃ   উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল রাজশাহী কলেজ

উত্তরা গণভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতি বিজড়িত দৃষ্টিনন্দন উত্তরা গণভবনে অতীতের ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের মাধ্যমে উত্তরা গণভবন নামকরণের স্বার্থকতা ও গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এটার নামকরণের ৫২ বছরও পার হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   রাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়

দিঘাপতিয়ার রাজপরিবার ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে গভর্নর হাউজ হিসেবে ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্থানের গর্ভনর মোনায়েম খান। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী উত্তরা গণভবনকে উত্তরাঞ্চলীয় হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করে।

ইতিহাসমতে জানা যায়, নাটোরের উত্তরা গণভবন আঠারো শতকে দিঘাপতিয়া মহারাজাদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ১৭৩৪ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদনাথ রায় সম্পূর্ণ প্রাসাদটি পুনঃনির্মাণ করেন। চারদিকে সীমানা প্রাচীরবেষ্ঠিত ৪২ একর জমির ওপর রাজবাড়ির ভেতর বিশেষ কারুকার্যখচিত উত্তরা গণভবনের মূল ভবনসহ ছোটবড় মোট ১২টি ভবন নির্মিত হয় সেসময়।


Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছি’

হাসনাত আব্দুল্লাহকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা

রাজশাহী -৫ আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থী নজরুল মন্ডল

সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ভোট দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার

নাতির কোলে চড়ে ভোট দিলেন ৯০ বছরের বৃদ্ধ

রাজশাহীর একমাত্র নারী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়থাপ্পড়

রাজশাহী বিভাগে ৫৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে

নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার

বাংলাদেশ-নেপালের নির্বাচনে দ. এশিয়ায় নতুন সুযোগ, বলছে যুক্তরাষ্ট্র

ভোট নিয়ে এসেছে উৎসবের আমেজ

১০

যশোরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন

১১

যশোর শার্শা উপজেলায় নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি

১২

নওগাঁ-১আসনে দুই প্রার্থীর ভোট প্রদান

১৩

নিয়ামতপুরে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড়

১৪

ভোট বর্জনের স্মৃতি পেছনে ফেলে সরব মাড়িয়া কেন্দ্র

১৫

উত্তরসূরি হিসেবে মেয়েকে প্রস্তুত করছেন কিম জং উন

১৬

বৈশ্বিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর

১৭

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফল মেনে নেব : তারেক রহমান

১৮

রাজশাহীতে নারী ভোটার বেশি, ভোট পড়েছে ৪৬ শতাংশ

১৯

রাজশাহীর ৬টি আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত

২০

Design & Developed by: BD IT HOST