খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল, প্রতিনিয়ত তীব্র লো-ভোল্টেজ, নতুন সংযোগের নামে অর্থ আদায় এবং গ্রাহক সেবার নামে চরম হয়রানি—খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন লক্ষ্মীছড়ি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এখন স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য দুর্ভোগের অপর নাম হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ এই অঞ্চলের হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক।
স্থানীয় অধিবাসী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন অবাস্তব কল্পনানির্ভর গল্পে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত তীব্র লো-ভোল্টেজের কারণে বাসাবাড়িতে লাইট ও ফ্যান ঠিকমতো চলে না। ফলে ফ্রিজ, টিভি সহ মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এর সাথে যোগ হয়েছে প্রতি মাসের অতিরিক্ত ‘ভুতুড়ে বিল’। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা সরজমিনে মিটার না দেখে মনগড়া ও আন্দাজে বিল তৈরি করছেন। এর ফলে নিম্নআয়ের ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে অতিরিক্ত টাকার মাশুল গুনতে গিয়ে দিশেহারা হতে হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র মানিকছড়ি বিদ্যুৎ অফিসের আওতাধীন লক্ষ্মীছড়ি উপকেন্দ্রে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও গ্রাহকেরা ন্যূনতম সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কোনো অভিযোগ বা সমস্যা নিয়ে অফিসে গেলে মেলে না সঠিক দিকনির্দেশনা; উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার ও হয়রানির শিকার হতে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
এছাড়া নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে চরম দুর্নীতি ও অনৈতিক লেনদেনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের যোগসাজশে নতুন মিটারের দোহাই দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
বিদ্যুৎ খাতের এমন সার্বিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় হতাশ পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় জনপদ। অবিলম্বে ভুতুড়ে বিল বন্ধ, ভোল্টেজ সমস্যা সমাধান এবং নতুন সংযোগে ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধে জরুরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ের হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের অবিলম্বে কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যথায়, এই জমতে থাকা তীব্র জনঅসন্তোষ যেকোনো সময় বড় ধরনের আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST