মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে মা ও বোনের মাথা ফাটালেন সুজন আলী (২৮) যুবক। টাকা না দিতে পারলে মাকে মেরে বাড়িতে ভাঙচুর করেন,এতদিন হাত কিংবা লাঠি দিয়ে মারধর করার কারণে মা শরীফা বেগম হাসপাতালে যাননি। তবে শনিবার ইট ছুঁড়ে মেরে শরীফার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন তার মাদকাসক্ত ছেলে সুজন আলী। একই অবস্থা হয়েছে শরীফার বড় মেয়ে ডালিয়ার (৩৫)। দুপুরে এ দুজন গোদাগাড়ী উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তাদের বাড়ি উপজেলার শিয়ালা গ্রামে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা শরীফার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। আর চোখ দিয়ে অনবরত ঝরছে পানি। তিনি জরুরি বিভাগের বেডে শুয়ে কেঁদেই যাচ্ছেন। তার মাথার নিচে একটি ওড়না। সেটি রক্তে ভেসে গেছে। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন শরীফার মেয়ে ডালিয়া। তার মাথাও ফেটেছে ইটের আঘাতে। তিনি তিনমাসের গর্ভবতী বলে জানালেন। এ অবস্থায় দুজনকে ভর্তি নেওয়া হয়।
ডালিয়া জানান, তার দুই ভাই। এরমধ্যে বড় ভাই সুজন মাদকাসক্ত। হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবা- সব খান। মাদকের টাকার জন্য রোজ বাড়িতে ঝামেলা করেন। এ জন্য সন্তান রেখেই তার স্ত্রী চলে গেছে। সুজন কোনো কাজ করেন না। তার বৃদ্ধা মা ছোট ছেলে রুবেলের সংসারে খান। তার কাছেই টাকার জন্য প্রতিদিন চাপ দেন সুজন। টাকা দিতে না পারলে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙেন। মাকে ধরে মারেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকেও টাকার জন্য মাকে ধরে লাথি মেরেই যাচ্ছিলেন সুজন। তখন তিনি মাকে রক্ষায় যান। এ সময় সুজন সরে গিয়ে ইট চালাতে শুরু করেন। ইটের আঘাতে তাদের মা-মেয়ের মাথা ফাটে।‘আমি গর্ভবতী। কবে জানি আমাদের মেরেই ফেলবে’- বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ডালিয়া। তিনি জানান, ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা তাকে জেলে দিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য মাস ছয়েক আগে ইউএনওর কাছে যান। তিনি তখন পাঠান থানায়। সেখানে বলা হলে একবার সুজনকে ধরতে বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু ধরা যায়নি। এরপর আর পুলিশ যায়নি। এখন প্রতিদিন সকাল-বিকাল মাদক সেবনের টাকার জন্য অত্যাচার করছেন সুজন। তারা এ থেকে রেহাই চান। আহত শরীফা বেগম বলেন, ‘আমি খাই ছোট ব্যাটার ঘরে। নিজের ভাতই জোগাড় করতে পারি না। হিরন খাওয়ার টাকা দিব কীভাবে? তারপরও সকাল-বিকাল ৫০, ১০০, ২০০ টাকার লাইগ্যা বড় ব্যাটা ঝামেলা করে। টাকা না দিলে প্রত্যেক দিন ধরে আমাকে মারে। বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করেও টাকা দিই। কিন্তু আর কত? কত মানুষ কত টাকা পাবে! আমি তো আর পারছি না।শরীফা বেগম এ সময় শুধু কেঁদেই যাচ্ছিলেন। তিনি তার ছেলেকে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন,ভুক্তভোগী মা ও বোন যদি থানায় আসেন তাহলে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হবে। তারা চাইলেই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। আগে থানায় গেলেও সুজনকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এই বিষয়টা এখন আমার মনে নেই।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST