
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : লাইসেন্সে উল্লেখিত কর্মএলাকা বহাল রাখা, অবসরের বয়সসীমা ৬৭ থেকে ৭২ বছর করা, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ফি সময়োপযোগী করা এবং বিবাহযোগ্য বর-কনের বয়স পুনর্নির্ধারণসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য রাজশাহীতে স্মারকলিপি দিয়েছেন নিকাহ রেজিস্ট্রাররা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে জেলার প্রায় অর্ধশত নিকাহ রেজিস্ট্রার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। কাজী খাইবর হোসেন ও কাজী নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে নিকাহ রেজিস্ট্রাররা বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে বিদ্যমান বিধি-বিধান ও পেশাগত নানা জটিলতার কারণে তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না বলেও তারা দাবি করেন।
কর্মরত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের লাইসেন্সে উল্লেখিত অধিক্ষেত্র বহাল রেখে শুধু শূন্য এলাকায় নতুন লাইসেন্স দেওয়া, ‘কাজীর সনদ’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং লাইসেন্স মঞ্জুরসংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটিতে একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার পদত্যাগ করলে বা পদ শূন্য হলে যোগ্য সন্তানকে অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়া, অসদাচরণের অভিযোগে নিয়োগ বাতিলের ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ সৃষ্টি, অবসরের বয়সসীমা ৭২ বছর করা এবং আইনগত ছুটির বিধান চালুর দাবিও রয়েছে।
ফি বৃদ্ধির দাবি
স্মারকলিপিতে প্রতি হাজার টাকা দেনমোহরে নিবন্ধন ফি ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা, সর্বনিম্ন বিবাহ নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা এবং তালাক নিবন্ধন ফি ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা করার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন ফি, ভ্রমণ, তল্লাশি, নকল ও নিকাহনামা-তালাকনামা সংশোধনের ফি পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
জালিয়াতি ও বাল্যবিবাহ রোধে বর-কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ঠিকানার আওতাধীন নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, একাধিক সমিতি গঠনজনিত জটিলতা নিরসন, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু এবং প্রতিটি কাজী অফিসে অফিস সহকারী বা দপ্তরী রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া স্মারকলিপিতে বিভিন্ন আইনের বিধানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৮৭৫ সালের সাবালকত্ব আইনের ৩ ধারায় ১৮ বছর বয়সী ব্যক্তিকে সাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ ধারায়ও সাবালক ব্যক্তির চুক্তি করার যোগ্যতার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের দাতা হওয়ার ক্ষেত্রেও ১৮ বছর বয়সকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দাবি, এসব আইনে ১৮ বছর বয়সে একজন ব্যক্তিকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বরের বয়স ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবাহযোগ্য বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের সেবা সহজ করতে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST