১১ মার্চ ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

নিয়ামতপুরে দুর্বৃত্তদের ‘প্রতিহিংসার’ আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের খড়ের গাদা

আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের খড়ের গাদা।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : ধানের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা। প্রতিবছর আমন ও বোরো মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয় এই উপজেলায়। আমন মৌসুমে ধানের পাশাপাশি শুকনো আঁটি খড় পায় কৃষকেরা। এই খড় তাঁরা গাদা করে রাখেন । কেউ সারা বছর ধরে গরুকে খাওয়ান, কেউ বিক্রি করেন।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, এই খড়ের গাদায় শ্যেন দৃষ্টি পড়ে দুর্বৃত্তদের। রাতের আঁধারে ‘প্রতিহিংসার’ আগুনে পুড় ছাই হয় খড়ের গাদা। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো কোনো কৃষকের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন কৃষক বলছেন, তাঁদের খড়ের গাদায় আগুন লাগার ধরন দেখে বোঝা যায় এই আগুন ‘শত্রুতামূলকভাবে’ লাগানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে আধপোড়া খড় গবাদিপশু খেতে চায় না। এতে দুশ্চিন্তা আর দুর্ভোগে পড়ে যান তাঁরা। প্রতি বছর আমন ধান মাড়াইয়ের পর ‘আগুন আতঙ্কে’ রাত কাটান।

নিয়ামতপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ০১ জানুয়ারি থেকে ০৯ মার্চ পর্যন্ত উপজেলায় ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবগুলোই খড়ের গাদার অগ্নিকাণ্ড। গত বছরে সংগঠিত ৬১টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ৫০টি ছিল খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এরমধ্যে প্রথম চার মাসেই ঘটে ২৯টি অগ্নিকাণ্ড। সাধারণত এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ‘অজ্ঞাত ব্যক্তি’, মাটির চুলা, বিড়ি-সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ, ছাইয়ের আগুন, বৈদ্যুতিক তার, পটকা-আতশবাজি থেকে হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম গ্রামে কৃষক আব্দুল হালিমের একটি খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর চার বিঘার জমির খড় পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ   রাকাব একীভূতকরণ প্রতিরোধ কমিটি লিফলেট বিতরণ

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে ‘শত্রুরা’ তাঁর খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়েছে বলে ধারণা করছেন। তাঁর দাবি , অগ্নিকাণ্ডে তাঁর ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি কোথাও লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান।

একই রাতে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে কৃষক আব্দুল মান্নানের দুইটি খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ১০ বিঘার জমির ৮০ হাজার টাকার খড় পুড়ে গেছে। তাঁর ধারণা, এই আগুন ‘শত্রুতামূলকভাবে’ লাগানো হয়েছে। তিনিও কোথাও লিখিত অভিযোগ দেননি।

এছাড়া গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর রাত নয়টার দিকে উপজেলার কানইল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে সগেন দাসের তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর ৩০ বিঘার খড় পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

২৬ ডিসেম্বর ভোরে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মাদারীপুর গ্রামে পবেন দাসের ১২ বিঘার একটি খড়ের গাদায় আগুন লাগায় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে মর্মে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন।

২৪ ডিসেম্বর রাত নয়টার দিকে উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের দাদরইল (চকপাড়া) গ্রামে খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মাসুদ রানা নিয়ামতপুর থানায় বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কে বা কাহারা রাতের আঁধারে খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ২০ বিঘা আমন ক্ষেতের খড় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ   চলন্ত ট্রেনের দরজা দিয়ে মাথা বের করে ওভারব্রিজে ধাক্কা

১৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা কৃষক সাইদুর রহমান, মিরাজ ও আজাহার আলীর ১৫ বিঘা আমন ধানের খড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে মর্মে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

এছাড়াও ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার সালালপুর (দিঘীরপাড়) গ্রামে কৃষক মো. হোসেন আলীর (৫৭) ধানের গাদায় আগুন দেয় দৃর্বৃত্তরা। থানায় লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাতের বেলা কে বা কাহারা পূর্ব শত্রুতার জেরে ১১ বিঘার জমির পাকা ধানের ৪টি পালা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করে দেয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিয়ামতপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সাহাদৎ হোসেন বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় নিয়ামতপুরে নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত খড়ের গাদার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটে। সাধারণত এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত মাটির চুলা, বিড়ি-সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ, ছাইয়ের আগুন, বৈদ্যুতিক তার, আতশবাজি থেকে হয়। তবে অনেকে মৌখিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক’ অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করেন। তাঁদেরকে থানাতে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া তিনি আগুনের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় কোনো খড়ের গাদার অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলে খোঁজ নেয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাশকতার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তানোরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত একাধিক

গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

রুয়েটের উপাচার্যের সাথে সাক্ষাত করলেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান

মান্দায় অবৈধভাবে তেল মজুত রাখায় ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ২

বাঘায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শপথ নিলেন চেম্বার পরিচালক আমিনুল ইসলাম : ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৬

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

রাজশাহীতে জমকালো আয়োজনে দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

এনপিটি সম্মেলনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

১০

রুয়েট পরিদর্শন করলেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার

১১

রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন যুগের সূচনা : ফকির মাহবুব আনাম

১২

কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর

১৩

যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানে স্কুলে হামলায় নিহত ১৫৫: রাষ্ট্রীয় টিভি

১৪

নাটোরে বাকপ্রতিবন্ধী ছেলের হাতে মা খুন

১৫

যশোরে নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

১৬

গোদাগাড়ীর ছয়ঘাটিতে অবৈধ জ্বালানি জব্দ করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ

১৭

রাজশাহী চেম্বারের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

১৮

বাঘায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ

১৯

হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নে রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারভাইজারদের সাথে মতবিনিময়

২০

Design & Developed by: BD IT HOST