
স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি রাজশাহী বিভাগ, পরিবর্তন রাজশাহী, দিনের আলো হিজড়া সংঘ রাজশাহী মহানগরসহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নারীর অর্জনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কোনো ধরনের বিভাজন বা বৈষম্য ছাড়াই সবার সমঅধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করাই এ দিবস পালনের মূল লক্ষ্য।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯০৮ সালে নিউইয়র্ক শহরের নারী পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে ধর্মঘট ও তাদের সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯০৯ সালে প্রথমবারের মতো নারী দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ উপলক্ষে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তারা বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণআন্দোলনে এ দেশের নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরে নারীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নারীদের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত না করার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তারা আরও বলেন, দেশে আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনে নারীর সমঅধিকারের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে নারীরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ধর্ষণের হার বৃদ্ধি পাওয়াও উদ্বেগজনক। নারী নির্যাতন দমন, ধর্ষণ প্রতিরোধ এবং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সংসদে নারী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী নির্যাতনবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সর্বক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
র্যালি ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. ফারুক হোসেন, আরএমপির এডিসি (বোয়ালিয়া) নাসিদ ফরহাদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি কল্পনা রায়, মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবর্তন রাজশাহীর পরিচালক এবং সনাক রাজশাহী জেলার সদস্য মো. রাশেদ রিপন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি রাজশাহী বিভাগের পরিচালক অ্যাডভোকেট দিল সিতারা চুনি, লিগ্যাল এইড রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক শিখা রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, অ্যাডভোকেট সামিনা বেগম, সমন্বয়কারী বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) রাজশাহী ইউনিট, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, দিনের আলো হিজড়া সংঘ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মোহনা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াজ বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST