স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারার শ্রীপুর ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ভোট দিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন জামায়াতের নারীসহ সাত কর্মী। এই ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামায়াতের এক কর্মীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই কর্মীর নাম এনামুল হক (৪৭)। তিনি পেশায় একজন পল্লিচিকিৎসক। তাঁর বাড়ি ইসমাইলপুর গ্রামে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল থেকে শ্রীপুর ইউনিয়নের মেন্দিপাড়া ভোটকেন্দ্রের বাইরে ধানের শীষের কর্মীরা অবস্থান নেয়। তারা দাঁড়ি পাল্লার ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জানানো হলে দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে পৌঁছে আটকে থাকা ভোটারদের উদ্ধার করে তাদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করে চলে আসে। ওই ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশ জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মী।
সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ধানের শীষের সমর্থকেরা আবারো আগের জায়গাতে অবস্থান নেয়। দুপুর আড়াইটার দিকে ইসমাইলপুর গ্রামের জামায়াতের ভোটারেরা ভোট দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। কেন্দ্রের অদূরে শ্রীপুর -মোহনগঞ্জ সড়কের মেন্দিপাড়ায় জামায়াতের ভোটারদের ঘিরে ধরে সেনবাহিনীকে কেন ডেকে এনেছেন এই বিষয়ে কৈফিয়ত চান। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কাঠের চলা দিয়ে জামায়াতের লোকজনদের পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে টিকতে না পেরে জামায়াতের লোকজন পালিয়ে যান। পাশের পুকুরে ঝাপ দিয়ে আত্নরক্ষা করে।
তবে জামায়াতের কর্মী এনামুল হককে একাকী পেয়ে পিটিয়ে আধমরা করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। এসময় এক নারীকে পেয়ে পিটিয়ে মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেয়।
পরে লোকজন আহত জামায়াত কর্মীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্বিতীয় দফা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত জামায়াত কর্মীর স্ত্রী হাবিবা খাতুন (২৭) বলেন, ‘সেনাবাহিনীরসহযোগিতায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম, রাস্তায় পেয়ে আমাদের মেরেছে। স্বামীর মাথা ফাইটা ফেলেছে, আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিচে।’
হামলার শিকার জামায়াত সমর্থক নূর মোহাম্মদ বলেন,’ বিএনপির ইউনিয়নের সম্পাদক সালাম পারভেজের নেতৃত্বে দোয়েলসহ আট নয়জন হামলা করেছে। তবে বিএনপির শ্রীপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’
বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম জানান, পুলিশ বিষয়টি অবহিত আছে। পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST