১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, রাত পোহালেই ভোট

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার : বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।

নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোসহ সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটায় শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটগ্রহণের।

ভোটের আগে-পরের ৯৬ ঘণ্টা সারাদেশে জনসভা আয়োজন বা অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এ ছাড়া ভোট গ্রহণ শুরু থেকে পরবর্তী সাড়ে ৮১ ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া বহিরাগতরা ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে।

আগে গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২২ জানুয়ারি (২১ জানুয়ারি রাত ১২টা) থেকে ১৯ দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামার সুযোগ পান সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা। শুরুতে ঢিলেতালে চললেও শেষ সময়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে প্রার্থীরা। রাজশাহীর ছয়টি আসনে চলে প্রচারণা। তবে এবারের নির্বাচনে মূল দুটি দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাদে সেভাবে অন্য দলগুলো প্রচারণা চালায়নি।

রাজশাহী-১ আসনে নির্বাচনি অংশ নিয়েছেন পাঁচজন প্রার্থী। এরমধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির শরীফ উদ্দিন, জামায়াতের অধ্যাপক মজিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহজাহান (ট্রাক), আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আবদুর রহমান (ঈগল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন আল-সাআদ।

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা রাজশাহী-১ আসনে ৪টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৪ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৭ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। এই আসনে ভোটকেন্দ্র আছে ১৫৯টি।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে লড়ছেন ছয় জন। এর মধ্যে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আমার বাংলাদেশ পার্টির মু.সাঈদ নোমান, নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সালেহ আহমেদ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৫৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৮জন। কেন্দ্র আছে ১১৫টি।

আরও পড়ুনঃ   ৩০ বছর পর টাইটানিক নায়িকা জানালেন, মেয়েদের প্রতিও টান ছিল তার!

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে লড়ছেন পাঁচ জন। এর মধ্যে বিএনপির শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান, আমজনতার দলের সাইদ পারভেজ ও স্বতন্ত্র এবং রাজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থী হাবিবা বেগম।

পবা ও মোহনপুর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ, তিনটি পৌরসভা আছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৮৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৬৯০ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৬ জন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন- বিএনপির ডি.এম জিয়াউর রহমান, জামায়াতের আবদুল বারী সরদার, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৬ ৫২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৪ জন। ভোটকেন্দ্র আছে ১২২টি।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে লড়ছেন সাতজন। তারা হলেন বিএনপির নজরুল ইসলাম, জামায়াতের মনজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা, স্বতন্ত্র ইসফা খায়রুল হক, স্বতন্ত্র রায়হান কাওসার ও স্বতন্ত্র রেজাউল করিম। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫০ হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার আছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৯ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৫ জন। ভোটকেন্দ্র আছে ১৩২টি।

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন বিএনপির আবু সাইদ চাঁদ, জামায়াতের নাজমুল হক, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস সালাম সুরুজ। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৮, নারী ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৩ ও হিজড়া দুজন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ২জন। ভোটকেন্দ্র আছে ১১৯টি।

আরও পড়ুনঃ   লে. জেনারেল সাইফুলকে বাধ্যতামূলক অবসর ও মজিবুরকে বরখাস্ত

আগের নির্বাচনগুলোর ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০১ সালে রাজশাহীর সবগুলো আসন ছিল বিএনপির দখলে। এরপরে তারা আর কোনও আসন পায়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি জয়ী হয়। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি ও জামায়াত। ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহীর আসনগুলো আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর ছয়টি আসনেই বিএনপির দাপুটে অবস্থান ছিল। অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতেও তুলনামূলক ভালো ফল করেছে বিএনপি। তবে ২০০৮ সালের পর থেকে তাদের কোনও আসন ছিল না। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশই নেয়নি। ১৮ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিল কারচুপির অভিযোগ।

আসনগুলোতে গত নভেম্বরে বিএনপি প্রার্থিতা চূড়ান্ত করলেও জামায়াতে ইসলামী আরও কয়েক মাস আগেই প্রার্থীদের মাঠে নামিয়েছে। আগে থেকেই নির্বাচনকেন্দ্রিক বেশ কিছু কমিটিও গঠন করেছে দলটি। ফলে ভোটের মাঠে প্রচারণায় আগে থেকে এগিয়ে জামায়াত।

অতীত নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসন থেকে জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বিজয়ী হলেও পরবর্তীতে আর কোনও নির্বাচনে অন্য আসনগুলো থেকে জয় পাননি দলটির প্রার্থীরা। যে কারণে এবার রাজশাহীর আসনগুলোতে জয় পেতে মরিয়া দল। পাশাপাশি দুর্গ উদ্ধার করতে চায় বিএনপি।

গেল ১৯ দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণাকালে রাজশাহী জেলা ও মহানগরীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। গণসংযোগের পাশাপাশি মিছিল, সভা-সমাবেশ ও জনসভা করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে ছিল মাইকিংও। তবে এবার প্রথমবারের মতো পোস্টারহীন প্রচারণা চালানোয় ভোটের চিরাচরিত আমেজের কিছুটা ঘাটতি দেখা দেয়। সেই ঘাটতির কিছুটা পূরণ হয়েছে প্রার্থীদের সমর্থনে টানানো বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে।

প্রচারণায় এগিয়ে ছিল প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট ও দল। বিশেষ করে বিএনপি জোট এবং জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রচারণা ছিল জমজমাট। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে ২৯ জানুয়ারি আসেন। তিনি নির্বাচনি জনসভা করে যান। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর জোট ও দলীয় প্রার্থীরা জনসভা করেন ৫ ফেব্রুয়ারি। এই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, জামায়াত জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দল ও জোটের প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণায় নেমেছিলেন। তবে রাজশাহীতে এবার বামপন্থি কোন দলের প্রার্থী ছিল না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঁচ দিন দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

শিবগঞ্জে যুবকের পায়ুপথ থেকে স্বর্ণের বার উদ্ধার

রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের জয়

তানোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পুঠিয়ায় কৃষিজমির টপসয়েল কাটায় অভিযান, এস্কেভেটর অকেজো

বড়াইগ্রামে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩

গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় মশার ভয়াবহ উপদ্রবে অতিষ্ঠ মানুষ, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আটক

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১০

মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

১১

অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

১২

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ১০ দিনে ৬৮৭ জন নিহত

১৩

জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন

১৪

এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ: প্রধানমন্ত্রী

১৫

জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে আমাদের কাজ করতে হবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৬

বিজিবি’র পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

১৭

নিয়ামতপুরে সরকারি বরাদ্দের খেজুর বিতরণ

১৮

আজ থেকে দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

১৯

প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ

২০

Design & Developed by: BD IT HOST