মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোর উপজেলার কালীগঞ্জ হাটে কীটনাশক ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সার বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মহব্বত আলী কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার মজুদ ও বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও একাধিক সূত্র জানায়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করার পাশাপাশি কৃষকদের জোরপূর্বক সার কিনতে হলে কীটনাশকও কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। কীটনাশক না নিলে সার দেওয়া হচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী বিসিআইসি অথবা অনুমোদিত ডিলার ব্যতীত ইউরিয়া সার পরিবহন, মজুদ বা খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই। অথচ প্রকাশ্যে দিবালোকে নিয়মিতভাবে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার এনে খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
একাধিক সূত্র জানায়, মোহনপুর উপজেলার ধুরইল, মৌগাছী ও কেশরহাট এলাকা থেকে চোরাপথে সার এনে তানোরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ও সরনজাই ইউনিয়নের কয়েকজন ডিলারের কাছ থেকেও সার সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, অনুমোদনপ্রাপ্ত ডিলার ছাড়া কোনো ব্যবসায়ীর সার মজুদ বা বিক্রির সুযোগ নেই। অথচ কোনো ধরনের ক্রয় রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন এলাকা থেকে সার এনে মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বৈধ অনুমোদিত সার ডিলাররা। তারা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া যদি সার ব্যবসা করা যায়, তাহলে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়।
গত ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, মিজান ট্রেডার্সের দোকানের পাশের সংযুক্ত গুদামে ইউরিয়া সার নামিয়ে মজুদ করা হচ্ছে। তবে ক্রয় রশিদ না থাকায় এসব সার আসল, নকল নাকি নিম্নমানের তা যাচাইয়ের কোনো উপায় নেই। রশিদ না থাকায় প্রতারিত হলেও কৃষকরা কোনো আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মহব্বত আলী অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, তার সার বিক্রির লাইসেন্স নেই সত্য, তবে সার ছাড়া কীটনাশক বিক্রি হয় না। তাই বিভিন্ন এলাকা থেকে সার এনে বিক্রি করা হয়। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাকে খুশি বলা হোক, তার সার বিক্রি বন্ধ হবে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কিছু সুবিধা পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST