স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় চুরির অভিযোগে নির্যাতন চালিয়ে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৯) হত্যা মামলার ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব । মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে নাটোর থেকে গ্রেপ্তারের পর বাগমারা থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামের সিএনজি চালক রেজাউল করিম (৪৭) ও হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দরগামড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ড্রাইভার (৪০), ভবানীগঞ্জ গ্রামের চা–দোকানি আসাদুল ইসলাম (৩৬) ও মধুপুর গ্রামের আবদুল হান্নান (৩৮)।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক হত্যা মামলার ৬ আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনের জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৫ এর একটি দল মোবাইল ট্যাকিং এর মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে নাটোরে অবস্থান নেয়। নাটোরে পৌঁছালে র্যাবের দলটি তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আটক করে। রাতেই তাঁদেরকে বাগমারা থানায় হস্তান্তর করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু জাহিদ শেখ। তিনি বলেন, র্যাবের হাতে আটক ৬ আসামি ওমর ফারুক হত্যা মামলা এজাহার ভুক্ত আসামী। আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওমর ফারুকের বাবা মোসলেম আলী সরদার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার ভবানীগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ডে তাঁর ছেলে ওমর ফারুক অটো ভ্যান রেখে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এলে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন তাঁকে আটক করেন। তাঁদের নির্দেশে সমিতির সদস্যরা ওমর ফারুককে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে ওমর ফারুক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে একটি প্রাচীরের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ওমর ফারুকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে ওমর ফারুকের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আসামিরা বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞাকে জানান। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওমর ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর ওমর ফারুককে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী কারাগারে পাঠায় পুলিশ। সেখানে অসুস্থ হলে পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
এলাকার লোকজন জানান, ওমর ফারুক মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য ছোটখাটো চুরি করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে চুরির মামলাও আছে। ঘটনার দিন ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডের অদূরে থাকা একটি অটোরিকশা থেকে ব্যাটারি চুরি করে পালাতে গিয়ে লোকজনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে সাজা দেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST