
অনলাইন ডেস্ক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় হামলাকারীর দুই সহযোগী ভারতে আটক হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে হাদি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান যে দেশে নেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ফয়সাল ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন।’
‘অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে’ মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফয়সালকে ওপারে সহায়তা করা দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এস এম নজরুল ইসলাম।
তবে কেন হাদিকে হত্যা করা হলো, সেই ‘মোটিভ’ সম্পর্কে এখানো নিশ্চিত নয় পুলিশ। নজরুল ইসলাম বলছেন, ‘যেহেতু মূল সন্দেহভাজনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি, মোটিভও এখনো জানা যায়নি।’
হাদি হত্যায় এ পর্যন্ত ফয়সালের বাবা ও মা, তার স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তদন্তে নেমে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স-কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচার চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা প্রধান আসামি ফয়সাল হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত অবস্থায় গুলি চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST