অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবিতে মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪ টায় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে এ মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শাহনেওয়াজ খান এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ও সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক কর্মরত থাকলেও মাত্র ৪ শতাংশ শিক্ষকের পদোন্নতি হয়। দীর্ঘ ৩২-৩৩ বছর চাকরি করেও অধিকাংশ শিক্ষক পদোন্নতি ছাড়া অবসর গ্রহণ করছেন, যা শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানহ্রাসের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর একটি বিশাল কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রশাসনিক জটিলতা ও দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই জটিলতা দূরীকরণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করার দাবি জানান।
তাদের ৫ দফা দাবিতে রয়েছে,
১. স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা;
২. সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করে চার স্তরীয় পদসোপান;
৩. আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংরক্ষণসহ মাধ্যমিকের সকল কার্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষা;
৪. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন;
৫. বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল এর মঞ্জুরী আদেশ প্রদান।
তারা আরও বলেন, জাতীয় শিক্ষা কমিশন ২০০৩ এবং শিক্ষা নীতি ২০১০-তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাকে পৃথক অধিদপ্তরে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০২৫ সালের সংস্কার পরিকল্পনায়ও স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি। কারন শিক্ষাক্ষেত্রে মাধ্যমিক স্তর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৯টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা শিক্ষা অফিস, ৫১৬টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ৬৮৬টি সরকারি কলেজ, ৭০৬টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০৪টি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ৫টি উচ্চ মাধ্যমিক টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ২০২৪ এর তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১.২৩২টি এর মধ্যে স্কুলের সাথে কলেজ রয়েছে ১৫১৪টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ২,৯৩,২৮৯ এবং ৯০,৬৩,৪২২। সারাদেশের মাধ্যমিক স্তরের অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী, জনবল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখভাল করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে মাত্র ১ জন উপপরিচালক ও ২ জন সহকারী পরিচালক আছেন। বিশাল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাতে গিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর হিমসিম খাচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক।
রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রহিমা আখতার জাহানের সভাপতিত্ব আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক উপপরিচালক আব্দুর রশিদ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহাব, রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রহিমা আখতার জাহান, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মোসাঃ নূরজাহান বেগমসহ বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST