২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

ক্ষমতা নয়, দেশে সুশাসন কায়েম করা জামায়াতের উদ্দেশ্য: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক : ক্ষমতায় যাওয়া উদ্দেশ্য নয়, দেশে সুশাসন কায়েম করা জামায়াতের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, আমরা যদি দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করি, তাহলে আপনাদের অন্তরের ভালোবাসা চাই। আপনারা আমাদের ভালোবাসা উপহার দেন। ভালোবাসার সঙ্গে সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। সমর্থন ও সহযোগিতার পাশাপাশি জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনাদের পাশে চাই। এই জাতিকে বদলে দেওয়ার জন্য আপনাদের অন্তরে একটা জায়গা যেন পাই। এই চারটা জিনিস যদি দেশবাসী আমাদের উপহার দেয়, আমরা দেশবাসীর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে যশোর ঈদগাহে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ইসলামী দেশবাসীর সেবা করা সুযোগ পেলে এদেশে চাঁদাবাজির অস্তিত্ব থাকবে না। দখলদারের অস্তিত্ব থাকবে না। ঘুষ থাকবে না। আমরা ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের প্রশ্রয় দেব না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আগে দেশ দুঃশাসনে পরিপূর্ণ ছিল। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দুঃশাসন ও জুলুম করেছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, জুলুমের কষ্ট বেশি ছিল। বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের মানুষ কল্পনা করতে পারেনি ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতন হবে। ফ্যাসিস্ট পতনের এই অর্জনের নেতৃত্ব আমাদের সন্তানদের। তাদের কোটা আন্দোলন দমাতে ফ্যাসিস্ট সরকার হাতুড়ি চালিয়েছে, হেলমেট বাহিনী গুলি চালিয়েছিল। আমাদের বীরসন্তানরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই গৌরব, অভিভাবক হিসেবে আমাদেরও।

আরও পড়ুনঃ   বাঘায় কৃষিজীবি শ্রমিক ইউনিয়ন এর উদ্যোগে কৃষক সমাবেশ

যশোর জেলা উন্নয়ন বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন জেলা যশোর। পুরাতন জেলা হিসেবে যশোরের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যশোরবাসী ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই শহরকে কেন্দ্র করে প্রাণকেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। পার্ক নেই, মাঠ নেই, জলকার নেই। উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মানুষের পা ছুঁয়ে নেয়, ক্ষমতায় গেলে তারা ভুলে যায়।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যাদের চোর, ডাকাত হিসেবে চিনি, তাদের সক্ষমতা কতটুকু? কিন্তু কলমের খোঁচায় যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করেছে, তারা বড় চোর-ডাকাত। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরা ডাকাতি করে ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের পুঁজি দিতে পারছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই অর্থনীতি আরও গতিশীল হোক। বাজারে সিন্ডিকেট এখনো ভাঙতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও উদ্যোগী হোক।

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদল চাঁদাবাজি করে চলে গেছে। আরেক দল আসুক, আমরা চাই না। দেশে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে? হাতবদল হয়েছে। এজন্য তো এতে মানুষ শহীদ হননি। আমরা যেন শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি না করি। ফুটপাত, হাটঘাট, বালুমহাল, জলমহাল দখল, চাঁদাবাজিতে কোনো নেতাকর্মী পা দিবেন না।

মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিথ্যা মামলায় নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। হত্যা মামলায় ৪শ-৫শ’ মানুষকে আসামি করা হচ্ছে। একজন মানুষ হত্যায় এত লোক কীভাবে জড়িত থাকে? প্রকৃত অপরাধীকে আসামি করে মামলা করুন। মামলা করে অর্থবাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য : জামায়াত আমির

দেশের সব মানুষের সমান অধিকার উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, দেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। সবাই সাংবিধানিকভাবে সমান। ধর্ম-বর্ণ মিলেমিশে আমরা বসবাস করি। কেউ যদি আপনাদের সংখ্যালঘু বলে, চিৎকার করে বলবেন, আমরা রাষ্ট্রের নাগরিক, সবার অধিকার সমান।

তিনি আরও বলেন, এদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তারাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘে চিঠি লিখে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছিলাম। এখনও বলছি তদন্ত করুন। দোষী প্রমাণিত হলে নিজের বিচার দাবি করছি।

নারীর অধিকার নিশ্চিতের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমীর বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে নারীর অধিকার নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়। আমরা নাকি নারীদের বন্দি করে রাখবো। আমরা বলতে চাই, জামায়াত ইসলাম নারীদের মায়ের জাতি হিসেবেই দেখতে চায়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, মাওলানা আজিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা আমীর অধ্যাপক আলী আযম, সাতক্ষীরা জেলা আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল, মাগুরা জেলা আমীর এম বি বাকের, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, শহীদ আবদুল্লাহর পিতা আবদুল জব্বার, যশোর জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর পূর্ব জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল আজিজ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, যশোর জেরা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ অনেকে।-ইত্তেফাক

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাত্র ৪৫ টাকা চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

শতবর্ষে উত্তম কুমার, তিনি বাঙালির মনের নায়ক : জয়া আহসান

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা এডিন জেকোর

১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যুক্তরাজ্যে নারী শিক্ষিকার বিচার

মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৬ সদস্য নিহত

রাজশাহীতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন

বাগমারায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পুঠিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ

নিয়ামতপুরে বাড়ির আঙিনায় গাঁজার চাষ, গ্রেপ্তার ১

তানোরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধন

১০

নগর পুলিশের বিশেষ টিমের অভিযানে ২ অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

১১

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৩

১২

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৩

নগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৪

নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাদকসেবীর কারাদণ্ড ও জরিমানা

১৫

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

১৬

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৮

রাজশাহীতে পরিবেশবান্ধব গ্রীন বিল্ডিং এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন রাসিক প্রশাসক

১৯

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে মৎস্য অবমুক্ত

২০

Design & Developed by: BD IT HOST