৩১ অগাস্ট ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করেছে মিয়ানমারের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: ২০২২ সালে ডেলিভারি ভ্যান চালক মং মংকে সামরিক জান্তা কয়েক সপ্তাহ ধরে আটকে রেখে নির্যাতন করেছিল। বিরোধী বাহিনীর জন্য পণ্য পরিবহনের সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময়ে সংসার চালানোর জন্য তার স্ত্রী ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

অবশেষে যখন মং মং মুক্তি পান, তখন তিনি তার চাকরি হারিয়েছিলেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিন দিন অনাহারে ছিলেন মং মং। ইতিমধ্যে তার পরিবার ঋণের সাগরে ডুবে গেছে। মরিয়া হয়ে মং মং ফেসবুকে একটি পোস্টে তার কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেন।

ওই সময়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে মং মং বলেন, ‘সেই মুহুর্তে, আমি অনুভব করেছি, জীবন খুব কঠিন। টাকার জন্য ডাকাতি করা বা খুন করা ছাড়া আমার বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। আমার স্ত্রীর মানসিকতাও একই রকম ছিল, সে আর এই পৃথিবীতে থাকতে চায় না। কিন্তু শুধুমাত্র আমাদের মেয়ের জন্যই আমরা বেঁচে থাকতে হয়।’

আরও পড়ুনঃ   বিমানে ভুলে চালানো হয় যৌনতাপূর্ণ ছবি, বদলাতে পারছিলেন না যাত্রীরা

কয়েক মাস পরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারির জন্য ভারতে যান। একজন ধনী চীনা-বর্মী ব্যবসায়ী ১০ লাখ বার্মিজ কিয়াট (তিন হাজার ৭৯ মার্কিন ডলার) দিয়ে তার কিডনি কিনেছিলেন। অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি করা ব্যক্তিদের মধ্যে মং মং একমাত্র নন।

সিএনএন-এর এক বছরব্যাপী অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মিয়ানমারে মরিয়া মানুষ ফেসবুকে ধনী ব্যক্তিদের কাছে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করেছে। এজেন্টদের সাহায্যে তারা ভারতে গিয়ে এই কাজটি করেছে। সিএনএন অন্তত তিনটি বার্মিজ ফেসবুক গ্রুপে অঙ্গ বিক্রির প্রস্তাবের পোস্ট খুঁজে পেয়েছে এবং বিক্রেতা, ক্রেতা এবং এজেন্টসহ অঙ্গ ব্যবসার সাথে জড়িত দুই ডজন লোকের সাথে কথা বলেছে। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির অভাবী মানুষেরা হতাশ হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ   বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে শিগগিরই

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের তিন বছর পর দেশটির পাঁচ কোটি ৪০ লাখ মানুষের প্রায় অর্ধেকই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ২০১৭ সালের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জান্তা নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করায় সহিংসতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশী বিনিয়োগ কমে গেছে, বেকারত্ব আকাশচুম্বী হয়েছে এবং মৌলিক জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে, বেশিরভাগ মানুষের তা নাগালের বাইরে চলে গেছে।

অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৬ বছর বয়সী এক তরুণ বলেন, ‘নিজের শরীরের অঙ্গ বিক্রি করা প্রত্যেকের জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। কেউ এটা করতে চায় না। আমি এটি করছি একমাত্র কারণ হল আমার কোনো বিকল্প নেই।’– রাইজিং বিডি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাবিতে সংঘর্ষ-উত্তেজনায় অস্থির ক্যাম্পাস

হারানো ৫০টি মোবাইল উদ্ধার করে মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জন

হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা

ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু

গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছিলেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরালের পর বরখাস্ত

নগরীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

সোমবার থেকে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়তে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার

১০

২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯৯০ সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত

১১

চাকরির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

১২

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার

১৩

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

১৪

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতের আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর

১৫

রাজপাড়া থানা জামায়াতের উদ্যোগে ‘৩৬ জুলাই স্মরণে’ সমাবেশ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

১৬

দলীয় রাজনীতি ও সাংবাদিকতা: স্বার্থের সংঘাতে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট

১৭

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

১৮

শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বেড়ে ওঠা পর্যন্ত যত্ন নিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

১৯

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই : প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কঠোর আইন

২০

Design & Developed by: BD IT HOST