অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম তীর্থস্থান জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স। ফুটবল, হকি, হ্যান্ডবল, কাবাডিসহ বেশ কয়েকটি খেলার ভেন্যু আবার ফেডারেশনের অফিসও। স্টেডিয়ামে যত্রতত্র দোকানপাট, যানচলাচলে ক্রীড়ার প্রকৃত পরিবেশ নেই। ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে অনেকেই এই এলাকায় ক্রীড়া পরিবেশ ফেরানোর অঙ্গীকার করেও পারেনি। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক স্টেডিয়ামে ক্রীড়া পরিবেশ ফেরানোর নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা, মতিঝিল জোনের ডিসিসহ অনেককে নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বেশ কয়েকটি দোকানে গিয়ে ভাড়ার বিষয় জিজ্ঞেস করেছেন। নির্ধারিত দোকানের বাইরে ফুটপাতেও মালামাল রাখতে দেখেছেন।
সামগ্রিক পরিবেশে হতাশা ব্যক্ত করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই ঢাকা স্টেডিয়াম, আমাদের হকি স্টেডিয়াম এবং অন্যান্য যে ক্রীড়া অবকাঠামোগুলো রয়েছে— সেগুলোতে আমরা খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। স্টেডিয়ামপাড়াকে আমরা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারিনি।’
স্টেডিয়াম এলাকায় সন্ধ্যার পর মাদকের আড্ডাও হয়। তাই মতিঝিল জোনের ডিসিকে সঙ্গে এনেছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এসব আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে ক্রীড়াবান্ধব রূপ দেওয়ার কথা বলেন আমিনুল।
তিনি জানান, ‘আমাদের সঙ্গে আমাদের সচিব এবং আমাদের পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা রয়েছেন। আমাদের আইজি প্রিজনও রয়েছেন। আমরা প্রথমত এই ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোর চারপাশকে ক্রীড়াবান্ধব করে তুলতে ব্যবস্থা নেব। এর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর মাদকের রাজত্ব কায়েম হয়। এছাড়া ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম হয়। এগুলো নির্মূলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব এবং পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে যাতে সন্ধ্যার পরে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটে।’
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্টেডিয়াম এলাকায় কয়েক দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেন। বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্টেডিয়ামের পরিবেশ ফেরাতে মোবাইল কোর্ট পুনরায় চালু করতে চান। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশের উন্নতি ঘটানোর ইচ্ছে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়কের।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অন্যতম আয়ের উৎস দোকান ভাড়া। সেই দোকান ভাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ে ভাড়াটিয়া দোকানদাররা বেশি পান। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই মান্ধাতা আমলের ভাড়া পেয়ে থাকে। আইনি জটিলতায় সেটা বাড়ানো সম্ভবও হয় না। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্বকালে এ নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি প্রতিবেদন দিলেও তেমন কার্যকর হয়নি।
তবে বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রী আশাবাদী, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়টি গভীরভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। আশা করি আইনগত বিষয়ও সমাধানযোগ্য।’
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST