২৭ জানুয়ারী ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

গোদাগাড়ীর মাঠে দুলছে জিরা, বরেন্দ্র অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার অর্থকরী ফসল

মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : বরেন্দ্র অঞ্চলের তপ্ত ও শুষ্ক মাটিতে এবার সুগন্ধ ছড়াচ্ছে জিরা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে জিরার আবাদ শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশার আলো। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো এবং বিকল্প অর্থকরী ফসল হিসেবে জিরা চাষকে কৃষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩ বিঘা বা ১ একর জমিতে জিরার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বিঘায় গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১১০ কেজি। সেই হিসাবে এক একর জমি থেকে প্রায় ৩৩০ কেজি জিরা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভের সুযোগ থাকায় এই মসলা ফসলের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

আরও পড়ুনঃ   বিভেদ ভুলে দেশ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল জাত ‘বারি জিরা-১’ ব্যবহার করেই এই সাফল্য এসেছে। এই জাতটি বেলে-দোঁআশ ও সুনিষ্কাশিত উর্বর মাটিতে ভালো জন্মে এবং মাত্র ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিরা একটি রবি শস্য। সাধারণত নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে বপন করা হয়। হেক্টরপ্রতি মাত্র ৮ থেকে ১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে সেচ ও সারের খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম। এর পাশাপাশি বাজারে জিরার উচ্চমূল্য থাকায় কৃষকরা উল্লেখযোগ্য মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ   আমি না বললে এখান থেকে বের হতে পারবেন না, স্যার— ম্যাজিস্ট্রেটকে রুমিন ফারহানা

উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে গোদাগাড়ীতে জিরার চাষ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে জিরা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

জিরা শুধু রান্নার মসলা নয়, এর রয়েছে ওষুধি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। বরেন্দ্র অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে গোদাগাড়ী দেশের অন্যতম মসলা উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। সরকারি সহযোগিতা ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকে জিরা বিদেশে রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই পরিবর্তন নিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

রাজশাহীর বাজারে মাছ-মুরগি আগের দামে, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

জুয়া প্রতিরোধ আইন,খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার

নৃশংস হত্যকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : আসাদুল হাবিব দুলু

পাবলিক প্রসিকিউটরদের সঙ্গে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের মতবিনিময় সভা

চার দিনের সফরে রাজশাহী আসছেন ভূমিমন্ত্রী

ম্যাচের আগেই মেসি বলেছিলেন, ‘৩-০ ব্যবধানে জিতবে আর্জেন্টিনা’

মান্দায় তিনদিন ব্যাপি ফল মেলার উদ্বোধন

বাংলাদেশের প্রাণীকুলের রেডলিস্ট হালনাগাদকরণের তিনদিন ব্যাপি প্রশিক্ষনের সমাপনী অনুষ্ঠিত

১০

রাসিক প্রশাসকের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ

১১

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৫

১২

রাজশাহীতে ২ লাখ ৩৩ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত ৫ লাখের বেশি মানুষ

১৩

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৪

ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে সাঁড়াশি অভিযান

১৫

নগরীতে অটোরিকশার ভাড়া তদারকিতে মাঠে রাসিকের রাজস্ব বিভাগ

১৬

বাংলাদেশ ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে : কৃষি মন্ত্রী

১৭

সংস্কৃতি মন্ত্রী’র সাথে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

১৮

বগুড়ায় এলজিইডির উদ্যোগে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৯

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সরকারের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST