স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে মাদ্রাসার নামে খাস জমি দখল করে রেখেছেন দীর্ঘ ২৭ বছর। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন গুচ্ছগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন “আল জামেয়াতুল আরাবিয়া আল কাওমিয়া আল এমদাদিয়া মাদ্রাসা” ১৯৯৮সালে প্রতিষ্ঠা করেন মো: রেজাউর রহমান। সরকারকে ফাঁকি দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দখল করে তৈরি করেছেন মাদ্রাসা। কিন্তু বিশাল আকার এই মাদ্রাসার ছাত্র সংখ্যা মাত্র ৮ জন। জমিটি যেকোনো উপায়ে দখল করে ভোগ করায় প্রতিষ্ঠাতা রেজাউর রহমানের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এভাবে কালক্ষেপণ করে এক সময় নিজের নামে জমিটি লিজ নিয়ে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড খুলে ফেলবেন এমন মতামত স্থানীয়দের, তা না হলে কেন এতদিন মাদ্রাসার নামে লিজ নেয়নি জমিটি। স্থানীয়রা আরো বলছেন, রেজাউর রহমান পরধনলোভী, বিশাল ক্ষমতাধর একজন মানুষ। তা না হলে বিগত ২৭বছর সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে খাস জমি ভোগ দখল করছে।
প্রায় ২ বিঘা সরকারি খাস জমির উপর এই বিশাল আয়তনের মাদ্রাসাটি অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠা করেন রেজাউর রহমান।
মাদ্রাসায় ছাত্রের সংখ্যা ৮ জন, শিক্ষকের সংখ্যা ২ জন এবং পরিচালক ১জন মোট ১১ জন মিলে প্রায় ২ বিঘা সরকারি খাস জমি ভোগ করছেন।
বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে ৮ থেকে ১০ জনের বেশি ছাত্রের সংখ্যা তালিকা দেখাতে পারেননি মাদ্রাসার পরিচালক। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রের তালিকা বেশি দেখিয়ে অনুদান নিয়ে আত্মসাৎ করায় পরিচালকের মূল লক্ষ্য।এছাড়াও বিগত সরকারের আমলে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজাউর রহমান। তার কাছে বিভিন্ন সময়ে অনুদান গ্রহণ করেছেন এবং তাকে দিয়ে তদবির করিয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীকে দিয়ে তদবির করিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনুদান গ্রহণ করেছেন এবং সেই অনুদানের টাকায় তিনি হোসেনিগঞ্জ এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন এমন অভিযোগ রয়েছে পরিচালক রেজাউর রহমানের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনসেডের ৮টি রুম রয়েছে মাদ্রাসার ভেতরে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে দীর্ঘ ২৭ বছরে কোন উন্নয়ন হয়নি মাদ্রাসার।
অনুদান নিয়েছেন আর আত্মসাৎ করেছেন পরিচালক। শিক্ষকরা বলেন, ৮টি রুমের মধ্যে ২টি রুমে শিক্ষক ও ছাত্র খুব কষ্ট করে বসবাস করে। বাকি ৬টা রুম এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। বাকি সমস্ত জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে, লাগানো আছে বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছ। প্রতিবছর অনেক টাকার আম বিক্রি হয় সেগুলো আত্মসাৎ করেন মাদ্রাসার পরিচালক।
আপনাদের বেতন কিভাবে হয় প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষক বলেন, পরিচালক স্যার আমাদের বেতন কিভাবে দেয় জানিনা। তারা আরো বলেন,এই মাদ্রাসায় শিক্ষকরা বেশিদিন থাকে না।
একই ব্যক্তি ২৭ বছর ধরে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করাই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।এই মাদ্রাসায় শিক্ষার মান, ছাত্রের উপস্থিতি এবং কাঠামোগত দিক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোতে ছাত্রের ভুয়া তালিকা তৈরি করে শুধু অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে, মাদ্রাসার কোন উন্নয়ন করা হয়নি।
এরই মধ্যে স্থানীয়রা শতাধিক ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত চাউল আত্মসাথের অভিযোগ দিয়েছে জেলা প্রশাসক বরাবর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতারণা করে শতাধিক ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত ২ মেট্রিকটন চাউল উত্তোলন করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।কিন্তু ওই মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা মাত্র আট জন। সেখান থেকে ১ মেট্রিকটন চাউল স্থানীয় একটি মুদির দোকানে গোপনে বিক্রি করেন পরিচালক। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি মুদির দোকানির কাছ থেকে চাউল গুলো ফেরত নিয়ে আসে।এতে প্রমাণিত হয় পরিচালক এভাবেই অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন দীর্ঘ বছর থেকে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক রেজাউর রহমান এর মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে,আমি এখন ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।
মাদ্রাসা সভাপতি ওয়াহেদুননবী সরকার,অতিরিক্ত সচিব(অবসর) এর মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন,আমি এখন ব্যস্ত আছি একটু পরে কথা বলছি,পরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড)মো:জাহিদ হাসান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টা আমি কয়দিন আগেই জানতে পেরেছি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST