
মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পাঁচ পরিবারের বসতবাড়ি, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ইলামদহী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির মূল দরজায় শিকল লাগিয়ে ভেতরে থাকা লোকজনকে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের কয়েকটি ঘরে। আগুনের ভয়াবহতায় পাঁচ পরিবারের ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ফেরদৌসী জানান, আগুন লাগার বিষয়টি প্রথম টের পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তবে ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। তার ঘরে রাখা প্রায় ১৫ লাখ টাকা পুড়ে যায়। পাশাপাশি তার বোন বিলকিস, মোজাম্মেল ও নুর ইসলামের পরিবারের ঘরও সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
ঘটনায় ফেরদৌসীর মেয়ে নাসিমার কপাল ও শরীরের কিছু অংশ দগ্ধ হয়। আরেক কলেজছাত্রীকে জানালা ভেঙে বাইরে বের করা হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নাসিমার স্বামী সিরাজুল বলেন, “আগুন আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। বছরের পর বছর কষ্ট করে যা গড়েছি, সব এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে।”
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও মালামাল পুড়ে যায়।
ইউপি সদস্য সাদিকুল ইসলাম বলেন, “গভীর রাতে আগুন দেওয়া মানে মানুষকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। আল্লাহর রহমতে সকলে প্রাণে বেঁচে গেছে। এখন তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।”
পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
তানোর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুই বান্ডিল টিন ও ছয় হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তারা দ্রুত সরকারি ও সামাজিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST