
স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রথম দিনের এই কর্মসূচিতে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে দাড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ব্যাপক প্রচার মিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন।
সকালের প্রথম প্রহরে পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় থেকে তাঁর গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর নওহাটা বাজার, থানার মোড়, ব্রিজঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় দাড়িপাল্লা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করে ভোটারদের কাছে তাঁর নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরেন। প্রচার শুরুর প্রথম দিনেই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। এরপর বিকেলে তিনি মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে গণসংযোগ করেন। প্রার্থী এলাকায় প্রবেশ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন এবং দাড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে প্রচার মিছিলে অংশ নেন।
গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল শেষে স্থানীয় জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত নানা সমস্যা প্রার্থীর সামনে তুলে ধরেন। এর মধ্যে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, কাঁচা রাস্তা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংকট এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তারা। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মনোযোগ সহকারে এসব অভিযোগ শোনেন এবং নির্বাচনে বিজয়ী হলে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
গণসংযোগ চলাকালে দেখা যায়, যেদিকেই প্রার্থী যাচ্ছেন সেদিকেই সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরছেন। অনেকে তাঁর মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বকে একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করে। যোগ্যতা, সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবতার সেবার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইন ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে দলটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
আরও বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ দুঃশাসন ও স্বৈরাচারের শিকার হয়েছে। উন্নয়নের নামে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, অথচ সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত থেকেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পবা-মোহনপুর এলাকার বহু ইউনিয়নে এখনো কাঁচা রাস্তা রয়ে গেছে এবং অনেক সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুরের প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভাঙা সড়ক দ্রুত সংস্কার, কাঁচা রাস্তা পাকা করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
শেষে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকল ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচনেই জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST