২৫ জুলাই ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

তানোরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী পিতল ও কাঁসা শিল্প

তানোর প্রতিনিধি : স্টিল ও প্লাস্টিকের রাজত্বে ও কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রাম- বাংলার ঐতিহ্য পিতল ও কাঁসা শিল্প। উপজেলার মুন্ডুমালা-চৌবাড়িয়া ও গোল্লাপাড়া হাট কাঁসা-পিতলের জন্য বিখ্যাত ছিল। এসব হাটে কাঁসা পট্টি নামে পৃথক পট্টিও ছিলো। হাটবারে যেখানে কাঁসা-পিতল ব্যবসায়ীরা সারিবদ্ধভাবে কাঁসা-পিতলের পসরা সাজিয়ে বসতেন ক্রেতা আকরিষ্টের জন্য।

এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলায় বিয়ে, বৌভাত ও সুন্নতে খাতনা ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানে কাঁসা-পিতলের জিনিসপত্র উপহার দেয়ার রেওয়াজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পিতল-কাঁসার নিখুঁত নকশার এসব তৈজসপত্র ওজন ও নকশা দিয়ে মূল্যায়ন হতো। অনেক সময় খোদায় করে নামও লিখা হতো। ওই সময় শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও ছিল এর প্রচুর চাহিদা। এছাড়া পর্যটকরা একসময়ে কাঁসা-পিতলের মধ্যে কারুকাজ খচিত বিভিন্ন দেব-দেবী ও জীবজন্তুর প্রতিকৃতি জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যেতো।

আরও পড়ুনঃ   নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ৬০ হাজার ট্রুপস থাকবে : প্রেস সচিব

এক সময়ে গোল্লাপাড়া বাজারের কাঁসা, তামা ও পিতল শিল্পের খুব সুনাম ছিলো। বিয়েসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে পিতল কাঁসার জিনিসপত্র দেয়া হতো। আবার উপহার পাওয়া পিতল কাঁসার জিনিসপত্র পুরাতন হয়ে গেলে বাজারে নিয়ে পলিশ (ছিলে) করিয়ে আবার নতুনের মত চকচকে করা হতো। দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি পুরাতন ছিল। এসবের স্থায়ীত্ব ছিলো অনেক দিন।

পলিশ করানো পিতলের জিনিসপত্র পুনরায় অন্যত্র সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেয়া হতো। এক সময় গোল্লাপাড়া মহল্লার আব্দুল আজিজ, হাদু ও ভদু মন্ডলসহ কয়েকটি পরিবার ছিলো এই পিতল-কাঁসা নির্ভর। পিতল-কাঁসার ব্যবসা করে তারা জীবীকা নির্বাহ করতেন। জানা যায়, ১৫৭৬ থেকে ১৭৫৭ সালে মোগল শাসনামলে এদেশে তামা, কাঁসা ও পিতলের ব্যবহার শুরু হয়। । এসব ধাতু দিয়ে তারা ঢাল, তলোয়ার, তীর, ধনুক, বন্দুক এবং কামান তৈরি করেন।

আরও পড়ুনঃ   মিরপুর স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যবেক্ষক দল

ব্রিটিশ শাসনামলে এই শিল্পের প্রসার ঘটে এবং বাংলার ঘরে ঘরে এর ব্যবহার শুরু হয়। শুধু তাই নয়, বিত্তশালী পরিবারগুলোতে এসব পণ্য খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সুবাদে এই শিল্পের ছোট বড় অনেক কারখানা গড়ে ওঠে। বর্তমানে স্টিল ও প্লাস্টিকের রাজত্বে বিলুপ হয়ে গেছে কাঁসা পিতলের তৈরি থালা, বাটি, গ্লাস, কলসী ও হাড়ি পাতিল। এখন আর হাট বাজারে এসবের কেনা বেচা চোখে পড়ে না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাসিক প্রশাসকের সাথে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রামেক হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২২

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য: বায়োইকোনমি রেজ্যুলেশন গৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামাবাদে পাকিস্তান-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

তথ্য অধিকার : সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নাগরিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি

পাবনাপাড়ায় ভূমিহীনদের পাশে রাসিক প্রশাসক

১০

নগরীর ৪নং ওয়ার্ডবাসীর সমস্যা সমাধানে সরেজমিন পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে রাসিক প্রশাসক

১১

তানোরে সরকারি কলেজের জমি দখল করে পাকা দোকান নির্মাণের অভিযোগ

১২

১৭নং ওয়ার্ড ক্রিকেট লীগের সিজন-৯ উদ্বোধন

১৩

রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া ও উজ্জীবিত করা হবে : রাসিক প্রশাসক

১৪

দরগা মসজিদ ও মাজারের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক

১৫

দিনাজপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার

১৬

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৩১

১৭

জয়পুরহাটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ১

১৮

মাহফিলের দাওয়াত ঘিরে দাওকান্দি কলেজে উত্তেজনা, প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

১৯

বাড়ির সামনে ভূমিহীনদের অনশন ভাঙালেন ভূমিমন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST