১৪ জুন ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

ড. ইউনূস-তারেক রহমানের বৈঠক অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বৈঠক কেন জানি মনে হয়েছে অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে। অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছেন না। কেন এই জ্বালা ভাই আপনাদের? আপনাদের উদ্দেশ্য কী?

শনিবার (১৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সব সময়ই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। আমরা কেউই এই চক্রান্তের বাইরে নই। ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং বিএনপির ১৫-১৬ বছরের এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ড. ইউনূস সাহেব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, রজমান মাসে কি নির্বাচনী প্রচারণা করা যায়? তবে ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের পর গোটাটাই রমজান থাকবে আর থাকবে ঈদের আয়োজন। আপনি এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে কোথায় প্রচারণা চালাবেন? কখন আইনি প্রক্রিয়া হবে। কখন নমিনেশন পেপার জমা দেবেন? কখন প্রচার চালাবেন? কীভাবে প্রচার চালাবেন? সারাদিন রোজা রেখে কী করে এপ্রিল মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়া সম্ভব? আমাদের এমন একটি সময়, যে সময়ের মধ্যে অন্য কোনো ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠান, রোজা-ঈদ থাকবে না, সে সময়টাতেই উপযুক্ত সময় হওয়া উচিত। তাহলে যদি লন্ডনের বৈঠকে এটা হয় যে আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বা প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনটা হবে, তো এর মধ্যে কোনো রমজান নেই, কোরবানির ঈদ নেই, বড় কোনো অনুষ্ঠান নেই, পহেলা বৈশাখ নেই। আবহাওয়া ভালো থাকে, শুকনো মৌসুম, হালকা শীত থাকে। এই সময়ই বরাবরই আন্দোলন সংগ্রাম হয়, এই সময়ই নির্বাচন হয়।

আরও পড়ুনঃ   এমপি হলে সম্পদ বাড়বে না, বরং কমবে: ডা. জাহাঙ্গীর

জামায়াতকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, আজকে আমাদের কিছু রাজনৈতিক বন্ধু উষ্মা প্রকাশ করেছেন, লন্ডনের বৈঠককে তারা বলেছেন নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবে। ভাই আপনাদের ইতিহাসটা বলুন তো দেখি। আপনারা কখন নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। পাকিস্তান আন্দোলনে আপনারা সমর্থন করেননি। আপনারা ৭১ সালে জনগণের বিরোধিতা করেছেন। আপনারা ৮৬ সালে শেখ হাসিনার সাথে নির্বাচন করেছেন। ৯৫ সালে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে হাসিনার সাথে একসাথে আন্দোলন করেছেন। আপনারা এই বার ৫ আগস্টের পর বলেছেন আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেব, ভারতের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করব। তাহলে আপনাদের রাজনীতিটা কিসের রাজনীতি? রাজনীত মানেই জনগণের কাছে ওয়াদা, জনগণের কাছে অঙ্গীকার, যেটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বারবার বলেছেন এই হাসিনা দুর্বৃত্ত, এই হাসিনা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে, মানুষের কথা বলতে গেলে তার ঠিকানা হয়েছে আয়নাঘরে, তার ঠিকানা হয়েছে পুলিশের অত্যাচার, র‌্যাবের অত্যাচার তার বিরুদ্ধে শত শত মামলা, তার স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে কারাগারে। আপনি সেই আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেবেন?

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জুলাই আগস্টের রক্তাক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক শহীদ মুগ্ধ, আরেক দিকে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা মহসীন, আহনাফ, সৈকত একের পর এক শিশু-কিশোর-তরুণ- এদেরকে হত্যা করে গেছে। আপনাদের রাজনীতিটা ভুলে ভরা। এই ভুলে ভরা রাজনীতি আপনারা শুরু থেকেই করে এসেছেন। আর বিএনপির সময় ইতিবাচক রাজনীতি করেছে। আমরা আমাদের দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে, আমরা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে, আমাদের ভূ-খণ্ড রক্ষার ক্ষেত্রে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে যদি আপস করতেন, তাহলে তাকে ৫-৬ বছর জেলে থাকতে হতো না। তার ওপর যে নিপীড়ন নির্যাতন- এতখানি হতো না যদি তিনি আপস করতেন। তিনি জনগণকে ছেড়ে কখনো যাননি, শেখ হাসিনা গেছেন।

আরও পড়ুনঃ   ‌‘জাতীয় পার্টি বাজপাখি, যাকে একবার ধরি আর ছাড় দেই না’

খালেদা জিয়া কখনো মাথা নত করেননি জানিয়ে রিজভী বলেন, এত বড় বড় কথা বলেছেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কত অপপ্রচার, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কত কুৎসা রটিয়েছেন। কত কি কথা বলেছেন, কিন্তু বেগম জিয়া তো দেশ ছেড়ে যাননি। বলেছেন শেখ হাসিনা যা বলছে, যে অপবাদ দিচ্ছে সেটি মিথ্যা। বরণ করেছেন নির্যাতন, কারাগারের মধ্যে থেকেছেন। যে কারাগার ২০০ বছরের পুরোনো কারাগার। শুধু ধুলা ওড়ে, বালু ওড়ে। উনার চোখের অপারেশন। সেই ধুলাবালু উড়ে তার চোখকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারপরও শেখ হাসিনার অন্যায়ের কাছে তিনি মাথা নত করেননি।

গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াজুল হান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু তাহের মুসল্লী, এমদাদুল হক মুসল্লী প্রমুখ।-ইত্তেফাক

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাস্থ্যখাতের ওপর সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতির মৃত্যুতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী জেলার শোক প্রকাশ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে বিপিজেএ রাজশাহী শাখার গভীর শোক

বাগমারায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণের উদ্বোধন করলেন এমপি ডা: আব্দুল বারী

জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

রাজশাহী স্টেশন ভাঙচুর, রেললাইনে আগুন দিল রাবি শিক্ষার্থীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে প্রায় ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ গ্রেফতার ১

কলকাতা- বেনাপোল -খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুই বছর পর চালু হচ্ছে

নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

১০

জয়পুরহাটে গৃহবধূ সাজু হত্যা মামলার রায়, দুই আসামির যাবজ্জীবন

১১

মানিকছড়িতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ছোটবোনকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোরী আমেনার মৃত্যু

১২

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেনাপোলে ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার

১৩

সাংবাদিক সাইদুর রহমানের ইন্তেকালে, রাজশাহী এডিটরস ফোরামের শোক

১৪

৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

১৫

চলে গেলেন প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান

১৬

শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহী স্টেশন ভাঙচুর, ৪ রেলকর্মী বরখাস্ত

১৭

শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাবিতে রেলপথ অবরোধ, আগুন

১৮

জয়পুরহাটে মাদকের বড় চালানসহ আটক ২, সেবনে দণ্ড ২ জনের

১৯

পাঁচবিবিতে ওসির অভিযানে মাদকের বড় চালান উদ্ধার, কারবারি পলাতক

২০

Design & Developed by: BD IT HOST