৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক : সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করেছে পাকিস্তান সরকার। মূলত চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের কোনও ধরনের পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই চাকরি পাওয়ার যে বিধান দেশটিতে এতোদিন ছিল সেটা বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

সংস্থাটি বলছে, চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া সরকারি কর্মচারীর পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার সুবিধা বাতিল করেছে সরকার। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সংস্থাপন বিভাগ।

সংস্থাপন বিভাগের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাওয়ার এই সুবিধাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুনঃ   নিউইয়র্ক থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে নিরাপত্তা হুমকি, নামানো হলো রোমে

তবে মৃত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্যাকেজের অধীনে অন্যান্য সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। স্মারকলিপিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের আগে সম্পন্ন করা নিয়োগগুলোও এই রায়ের কারণে প্রভাবিত হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছর, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি চাকরির কোটা প্রকল্পকে বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করার রায় দেয়। অতীতে এই প্রকল্পের অধীনে কোনও মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা স্বামী বা চিকিৎসাগতভাবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর সন্তানকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বা যোগ্যতা-ভিত্তিক নির্বাচনী পরীক্ষার প্রয়োজন ছাড়াই কোনও একটি সরকারি পদে নিয়োগ করা হতো।

আরও পড়ুনঃ   বোমা হামলায় পুরো মুম্বাই কাঁপানোর হুমকি, শহরজুড়ে আতঙ্ক

রায়ে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত উল্লেখ করে, এই ধরনের প্রকল্পটি নিম্ন-গ্রেডের কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে বৈষম্যমূলক। আদেশে বলা হয়, “এই চাকরিগুলো বংশগত নয় বা করা যাবে না।”

আদালত আরও বলেছিল, যে কোনও নীতি বা আইন যদি সাংবিধানিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয় তা বিচারিক পর্যালোচনার বিষয় হবে। ফেডারেল এবং প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে সাংবিধানিক কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য করে এই আইনগুলো প্রত্যাহার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাবিতে সংঘর্ষ-উত্তেজনায় অস্থির ক্যাম্পাস

হারানো ৫০টি মোবাইল উদ্ধার করে মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জন

হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা

ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু

গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছিলেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরালের পর বরখাস্ত

নগরীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

সোমবার থেকে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়তে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার

১০

২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯৯০ সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত

১১

চাকরির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

১২

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার

১৩

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

১৪

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতের আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর

১৫

রাজপাড়া থানা জামায়াতের উদ্যোগে ‘৩৬ জুলাই স্মরণে’ সমাবেশ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

১৬

দলীয় রাজনীতি ও সাংবাদিকতা: স্বার্থের সংঘাতে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট

১৭

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

১৮

শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বেড়ে ওঠা পর্যন্ত যত্ন নিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

১৯

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই : প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কঠোর আইন

২০

Design & Developed by: BD IT HOST