২ জানুয়ারী ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রাবির প্রশাসন ভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী

রাবি প্রতিনিধি : ৬ ঘণ্টা ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন। ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন দুই উপ-উপাচার্যসহ শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে সকাল পৌনে ১০টার দিকে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে সবাইকে প্রশাসন ভবন থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা এখনো তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি কোনোভাবেই এই কোটা রাখা যাবে না। যদি এই প্রশাসন ভবন থেকে বের হতে হয় তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোটা বাতিল করে বের হতে হবে। এদিকে ভেতরে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান। তিনি সেখানে লিখেছেন, তাপসী রাবেয়া হলের একজন নারী কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে প্রশাসনিক ভবনে এসে আটকে গেছেন। খবর এসেছে তার বৃদ্ধা মা সংকটাপন্ন অবস্থায়। তাকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। একজন ডায়াবেটিক রোগীর খাবার ঢুকতে দেয়নি। আমি সালাহউদ্দিন আম্মারকে উক্ত কর্মকর্তাকে বের হতে দেওয়ার অনুরোধ করলে সে বের হতে দেবে না বলে ফোন রেখে দিয়েছে। আমি এই ধরনের অমানবিক আচরণ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যের নাগরিক অধিকার খর্ব করে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, কোটার দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে দেশের একটি স্বৈরাচার সরকার পরিবর্তন হয়ে গেল। অথচ একটি অযৌক্তিক পরিবারতন্ত্রের কোটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহাল রেখেছে। এর সম্পূর্ণ বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষার্থীদেরে আন্দোলন নিয়ে আমরা অনেক উদ্বিগ্ন। আমরা চেষ্টা করে কোটার পার্সেন্টেজ অনেকটা কমিয়ে নিয়ে এসেছি তবে সেটা শুধু এ বছরের জন্য। আগামী বছর থেকে তাদের বেতন স্কিল যদি বাড়ে তাহলে এই কোটা পুরোপুরি বাতিল হবে বলে মনে করছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যতটা কমিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু এর চেয়ে বেশি রয়েছে। আমরা মনে করছি একটি সমাধানের পথে আমরা চলে এসেছিলাম কিন্তু শিক্ষার্থীরা কেন যে এমনটা করছে এটা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, এভাবে ভেতরে শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে রেখে কোনো আন্দোলন হতে পারে না। আমি মনে করি শান্তিপূর্ণ একটি সমাধানে আসা যেত। এর আগে গতকাল রাতে কোটা বাতিলের জন্য ১৫ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। তবে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এদিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তারা ৯টা ৫০ মিনিট থেকে মাইকে প্রশাসন ভবন থেকে সবাইকে বের হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে ভবনে অবস্থানকারীরা বের হয়ে যাননি। এরপর ১০টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েন। এদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী বলে অভিযোগ উঠেছে। বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কামরুজ্জামান কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত বিভা, বারিন্দ মেডিকেল কলেজের মাহফুজা রাহাত, বেলপুকুর কলেজ সুস্মিতা, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্মী, আদর্শ অনার্স ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শুভ্র ও রাজশাহী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসনিমসহ প্রায় ৩০ জন বহিরাগত শিক্ষার্থী এ আন্দোলনে অংশ নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ১% কোটা রাখায় আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। এদিকে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না। সালাউদ্দিন আম্মার একাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন আন্দোলনের। এখানে অন্যান্য সমন্বয়করাও নেই, কোনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই অযৌক্তিক আন্দোলন করছেন তারা। বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনের সমন্বয়কারী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, এখানে অবস্থানরত বহিরাগত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ভর্তি পরীক্ষার্থী এবং যারা এর বাইরের আছেন তারা নিজেদের ছোট ভাই বোনদের জন্য পোষ্য কোটা না রাখার ও ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে সংহতি জানাতে এসেছেন। প্রসঙ্গত, গত একমাস ধরে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। দাবির প্রেক্ষিতে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানদের কোটা বাতিল করে কেবল সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা পুনর্র্নিধারণ করেছে রাবি প্রশাসন। তবে শিক্ষার্থীরা চান পুরোপুরি বাতিল করতে হবে পোষ্য কোটা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাসিক প্রশাসকের সাথে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রামেক হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২২

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য: বায়োইকোনমি রেজ্যুলেশন গৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামাবাদে পাকিস্তান-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

তথ্য অধিকার : সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নাগরিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি

পাবনাপাড়ায় ভূমিহীনদের পাশে রাসিক প্রশাসক

১০

নগরীর ৪নং ওয়ার্ডবাসীর সমস্যা সমাধানে সরেজমিন পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে রাসিক প্রশাসক

১১

তানোরে সরকারি কলেজের জমি দখল করে পাকা দোকান নির্মাণের অভিযোগ

১২

১৭নং ওয়ার্ড ক্রিকেট লীগের সিজন-৯ উদ্বোধন

১৩

রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া ও উজ্জীবিত করা হবে : রাসিক প্রশাসক

১৪

দরগা মসজিদ ও মাজারের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক

১৫

দিনাজপুরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার

১৬

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৩১

১৭

জয়পুরহাটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ১

১৮

মাহফিলের দাওয়াত ঘিরে দাওকান্দি কলেজে উত্তেজনা, প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

১৯

বাড়ির সামনে ভূমিহীনদের অনশন ভাঙালেন ভূমিমন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST