স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় ডেইরি ফার্মের গাড়িতে ডাকাতির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৩৩ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন, নগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) ও মতিহার থানার মির্জাপুর এলাকার মৃত হাসানের ছেলে আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)।
সোমবার দুপুরে নগর ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা দুই হাজার লিটার শীতলকৃত তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড করার পর সেন্টার ম্যানেজার তাকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেন। ওই টাকা তিনি লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা লরির সামনে ব্যারিকেড দিয়ে গতিরোধ করে। পরে তারা লরির জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে লরির ভেতরে থাকা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলু এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আব্দুর রহমান ডাবলুর কাছ থেকে ডাকাতি করে ছিনিয়ে নেওয়া ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে সায়েম ওরফে মিলনের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু ও ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ৩৩ হাজার টাকা। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে গ্রেপ্তার দুই আসামি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। ছিনতাইকৃত বাকি অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান আরএমপির মুখপাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মনিরুল ইসলাম উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)-সহ ডিবির কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST