৩ জানুয়ারী ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

বেগম খালোদ জিয়া দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন: মিলন

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশর অবিসাংবাদিত নেতা তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, আপোষনহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার রাত ৮টায় পবার হড়গ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড পশ্চিম বালিয়ার এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

মিলন তার অশ্রু ভেজা কন্ঠে বলেন, প্রিয় নেত্রীর কথা বলতে গেলে বুকে চাঁপ ধরে যাচ্ছে, হারিয়ে ফেলছি মুখের ভাষা। শোকে যেনো বুকটা পাথরের মতো ভার হয়ে আছে। বিএনপির অভিসংবাদিক নেতা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ত্যাগ তিনি স্বীকার করেছেন। এমন কোন নির্যাতন নাই তিনি সহ্য করেননি। সেই ১৯৬০ সালে তাঁর বিয়ে হয়েছিলো। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছিলো। তখন থেকে তিনি কষ্ট করে আসছিলেন। কারো বাড়িতে সেনা সদস্য থাকে তাহলে সেই বাড়ির লোকজন অনেক উৎকণ্ঠায় থাকে। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছিলো, সে সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছিলেন। তখন থেকেই বেগম জিয়া অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কাজ করে গেছেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যখন মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন তখন তিনি বেগম জিয়াকে বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন না। তখন তিনি পাকিস্তানের সেনা ছিলেন। ঘোষনা দিয়ে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করেছিলেন। এর পরেও তিনি কোন প্রকার ভয় করেন নি। সে সময়ে বেগম জিয়া চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পালিয়ে এসেছিলেন । কিন্তু শেষ রক্ষা হয়েছিলো না। তিনি ঢাকায় এসে সন্তানদের সহ পাকিস্তানী সেনাদের হাতে আটক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যার স্বামী বিদ্রোহ ঘোষনা করেন তার হাতেই যদি আটক হয় তাহলে কি হবে বুঝতে পেরেছেন। সে সময়ে তিনি পাকিস্তানী এক অফিসারের নিকট একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন যদি তার স্ত্রীকে অপমান ও স্ত্রী সন্তানদের যদি কোন ক্ষতি করা হয় তাহলে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না হুঁশিয়ারী দিয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রোববার

তখন থেকেই তাঁর দৃঢ়তা তৈরী হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যখন ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হলেন, তখন বিএনপি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। সে সময়ে বেগম জিয়া দেশবাসীর অনুরোধে বিএনপির হাল ধরেছিলেন। আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরাচার এরশাদকে হটিয়ে ছিলেন। কারো সাথে বেইমানী বা মোনাফেকী না করে তিনি আপোষহীন নেত্রী হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে জনগণ ভোট দিয়ে তাঁকে নির্চাচিত করেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় সে সময়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন। তিনি নারীদের জন্য প্রথম উপবৃত্তি চালু করেছিলেন। সেই নেত্রী কয়েকদিন পূর্বে (৩০ ডিসেম্বর) মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন বক্তব্য দিতে মনে চায়না। বক্তব্য আসেনা। কারণ তিনি আমাদের শ্নেহ দিয়ে এতদুর নিয়ে এসেছেন। তারজন্য এমনভাবে দোয়া চাইতে হবে, তা কল্পনাতেও আসেনি। তাঁর মৃত্যুর মাধমে দেশের জনগণকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। সেটা হলো দেশের মানুষকে বাঁচাতে ও দেশ বাঁচাতে এক কাতারে আসতে হবে। বেগম জিয়ার জানাযায় ছাব্বিশটি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দেশের প্রায় সমস্ত আলেম ওলামারা তাঁর জানাযায় ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ   জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যশোর বিজিবির নজরদারি

তাঁর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ গণনা করে বলতে পারবেনা। দোয়া মাহফিলের আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানান। তিনি ধানের শীষের ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, শনিবার যাচাই বাছাইয়ের সময় বিএনপির প্রার্থীদের মামলার কথা তুলে ধরে সিটিএসবি। অথচ আরেকটি দল দুধে ধোয়া। তাদের নামে কোন মামলাই নাই বলে সিটিএসবি তুলে ধরে। এতে কি বোঝা যায়, সবাই তা জানে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতের প্রার্থী দুর্নীতি করবেনা বলে বিভিন্ন স্থানে বক্তব্যে দেন। তাহলে তিনি দুর্নীতি করেছেন নিশ্চয়। তিনি দীর্ঘ সাতাশ বছর চেয়ানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাট-ঘাট ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রদান করা হয়। সেই অর্থ কিভাবে ব্যায় করেছে তার কোন হিসাব তিনি দিতে পারবেনা। তিনি মসজিদের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। শুধু তাইনয় তিনি মসজিদের অন্যান্য জমিও বিক্রি করার পাঁয়তারা শুরু করেছিলেন। এলাকাবাসীর বাধায় তিনি তা করতে পারেননি। তিনি মিনিমাম চল্লিশ কোটি টাকা পেয়েছেন। এই টাকায় কোথায় কোথায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেনে কেউ বলতে পারবেনা। এর হিসাব এক সমওয়ে ঠিকই দিতে হবে বলে জানান তিনি।

জামায়াতের নেতারা বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। আল্লাহ যদি না চান, তাহলে কি কেউ বেহেস্তে কিংবা দোজখে যেতে পারবেন। মানুষকে ধোকা দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য শেষে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময়ে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খামেনির মৃত্যু: ১০০ দিন পরও হয়নি দাফন, উত্তরসূরিকে নিয়েও রহস্য

রাজশাহীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান চোরাচালানী মালামাল জব্দ

রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে : রাসিক প্রশাসক

রাত্রিকালীন রেলযাত্রীদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে আরএমপির উদ্যোগ

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সাথে রাসিক প্রশাসকের সাক্ষাৎ

অপরাধ দমনে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও গাফিলতিতে তিরস্কারের নীতি বহাল থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাসিক প্রশাসকের সাথে জনতা ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজারের সাক্ষাৎ

মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

১০

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৭

১১

নগরীতে আওয়ামীলীগের মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

১২

নগরীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬

১৩

রামেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

১৪

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

১৫

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

১৬

টানা ছুটি শেষে আজ শ্রেণিকক্ষে ফিরছে লাখো শিক্ষার্থী

১৭

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে আজ

১৮

১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় শক্তি : তথ্যমন্ত্রী

১৯

জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের মহান স্থপতি : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST