স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: সানাই ও ঢাকের শব্দে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ শুরু হবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় এবার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের মোট ১৮টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ কাজ প্রায় শেষ। বাকি আছে শুধু রং-তুলির আঁচড়ের কাজ। প্রতীমায় রংয়ের আঁচড়ের পরেই দৃষ্টিনন্দন হয়ে ফুটে উঠবে।
পুরোহিত শীতা ঠাকুর বলেন, এ বছর পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টায় মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে মহাদুর্গোৎসব। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এবার দেবী দূর্গা আগমন করবেন ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে পালকীতে করে গমন করবেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী পূজারী ও ভক্তরা তাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে দেবী দূর্গাকে বরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দুর্গাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শীবেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও আনন্দঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এবারের দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি পূজা মন্দিরে স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত শারদীয় দুর্গোৎসব। তাদের এই শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের লক্ষ্যে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পূজামন্ডপ গুলো পরিদর্শন করেছি এছাড়াও কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি। শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন সময়ে সকল মন্ডপে নজরদারি সহ সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওসি।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে উদযাপন করতে সার্বক্ষণিক পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ও সাইবার টিমসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল ইউনিট কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এখন মন্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান। পূজা চলাকালীন সময়ে সকল মন্ডপে পুলিশের কঠোর নজরদারি রাখা হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং কমিটি করে দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST