মোহাঃ আসলাম আলী,স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাঘায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নার্স ছাড়াই চলছে ক্লিনিক। ফলে একের পর এক ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। সেবা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন রোগীরা। এমনি অভিযোগ উঠেছে বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে। কোন নিয়ম-নিতি মানা হচ্ছেনা এই ক্লিনিকে। ক্লিনিকে নেই অজ্ঞান কারক (অ্যানেসথেনিয়া), অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন অটোক্লেভ মেশিন, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স। ফলে এসব ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই চলছে অপারেশন।
জানা গেছে, উপজেলায় ডায়গনোষ্টিক সেন্টার ও প্যাথলজিক্যাল-সহ ১৯টি ক্লিনিক রয়েছে। তবে সিভিল সার্জন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তালিকায় রয়েছে ১৭টি। এরমধ্যে ২/১টি ক্লিনিক ছাড়া প্রায় ক্লিনিকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অনেক সময় এসব ক্লিনিকে রোগীর নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও দায় এড়ানোর জন্য পাঠানো হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে প্রতিটি মৃত্যুর পর ক্লিনিক মালিকরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। এসব ক্লিনিকের মধ্য ভুল অপারেশানে সেবা ক্লিনিকে একাধিক রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই-২৫ ইং তারিখ সকালে সেবা ক্লিনিকে জরায়ুর সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন, বাঘা পৌর এলাকার উত্তর মিলিক বাঘা গ্রামের খোরশেদ আলমের স্ত্রী মালেকা বেগম (৬৫)। দুপুরে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরেদিন মারা যান মালেকা বেগম। ক্লিনিকের মালিক দাবি করেন অপারেশন করেন ডাঃ জহুরুল ইসলাম এবং (অ্যানেসথেনিয়া) ছিলেন,ডাঃ পারভেজ।
এছাড়া গত ১ নভেম্বর-১৭ ইং সিজার অপরেশনের জন্য লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া গ্রামের আলো খাতুন নামের এক প্রসূতি ভর্তি হলে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের কয়েক ঘন্টা পর নবজাতককে রেখে মারা যান ওই প্রসূতি। তবে ঘটনার পর ক্লিনিক মালিক দাবি করেন বিশেষজ্ঞ সার্জন আব্দুল্লাহ আল মামুন অপারেশন করেন।
এই হলো বাঘার ক্লিনিকের অবস্থা। বাঘা সেবা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের পরিচালক ডাঃ জিল্লুর রহমান বলেন, “কোন ডাক্তার চান না চিকিৎসা করতে গিয়ে কোন রোগী মারা যাক। মালেকা বেগম ভুল চিকিৎসা ও অপারেশনে মারা যায়নি। সে স্টোক করে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবাবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কোন ব্যাক্তি লিখিত অভিযোগ করেননা। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ,ফ,ম আশাদুজ্জামান জানান, এবিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST