১৮ জানুয়ারী ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে সুফল পাচ্ছে চাষিরা ড্রিপ ইরিগেশন সেচ পদ্ধতিতে

এম.এ.জলিল রানা.জয়পুরহাট : জয়পুরহাটে সুফল পাচ্ছে চাষিরা ড্রিপ ইরিগেশন সেচ পদ্ধতিতে। জেলায় ড্রাগন চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে ‘ড্রিপ ইরিগেশন এ পদ্ধতি’। কম খরচে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে জেলায় চাষীদের আস্থা অর্জন করছে এ পদ্ধতি। শুধু ড্রাগন চাষাবাদেই নয়, ফুল ও ফল জাতীয় বাগানেও ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল পেতে শুরু করেছে জেলার চাষীরা। এখন ধীরে ধীরে এ পদ্ধতি দেখে অনেকই আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এবং তারা বলছেন,‘সরকারিভাবে ওই ধরনের পদ্ধতি আমাদের ব্যবহার করতে দেওয়া হলে আমরাও করবো।’

জেলার সদর উপজেলার পালি চকমোহন গ্রামের চাষী গোলাম আজম আলীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন,‘৩ বছর আগে আড়াই বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করি। তখন সেচ দিতাম ভাড়া করা শ্যালো মেশিন । ঘণ্টায় দিতে হতো ২০০-২৫০ টাকা। সে সময় পুরো জমি ডুবিয়ে দিতে হতো।এতে খরচ হতো অনেক। গেল বছর স্থানীয় একটি এনজিওর পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে দেওয়া হয় ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি । এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে খরচ অনেক কম হচ্ছে। যতটুকুন পানি প্রয়োজন; ততটুকুনই পানি পাচ্ছি। আমি আশা করছি, এ বছর লাভ আরও বেশী হবে।’

আরও পড়ুনঃ   বাবা-মাকে ভরণপোষণ না দিয়ে মারধর, ছেলে কারাগারে

এখন জেলায় গোলাম আজমের মতো অনেকেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। কথা হয় সদর উপজেলার খনজনপুরের চাষী হেলালের সাথে। তিনি বলেন,‘ ৪ বিঘা জমিতে লিচু আর লটকন গাছ আছে। আমি এবারই প্রথম এ পদ্ধতি শুরু করেছি। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সেচ দেওয়ার সময় শ্রমিক লাগে না। জমির সব জায়গায় পানি দিতে হয় না। তাই খরচ অনেকটাই কম হচ্ছে। আশা করছি আমরা লাভবান হবো।’

আগ্রহী চাষী দিলিপ চন্দ্র বলেন,‘আগে আমরা জমিতে ঢালাও ভাবে সেচ দিতাম। তখন তো পানি লাগতো বেশি। এখন দেখছি এ পদ্ধতি ব্যবহারে পানি নষ্ট হচ্ছে না।এ ধরনের পদ্ধতি আমাদেরও দেওয়া হলে ব্যবহার করতাম।’

আরও পড়ুনঃ   মান্দায় ৫ বসতবাড়িতে আগুন, তিনটি গরু মারা গেছে

বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা জেআরডিএম’র কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন,‘চাষীদের চাষাবাদের জন্য অনেক বেশি পানি সেচ দিতে হতো। এতে করে সেচ খরচ অনেক বৃদ্ধি পেতো। চাষীরা লাভবানও কম হতেন। চাষীদের সেচ-চাষে খরচ যেন কম হয়, আর লাভ যেন বেশী হয়,সে লক্ষ্যেই জিআরডিএম চাষীদের মাঝে এ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন,‘অন্য ভাবে চাষ করলে সেচে অনেক বেশি পানি অপচয় হয়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ড্রিপ ইরিগেশন সেচ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এতে করে কম খরচে ফসলে-বাগানে সেচ দিতে পারবেন চাষিরা। আর তাতে খরচও কম হবে এবং বেশি লাভবান হবেন চাষিরা।এ পদ্ধতি আরও বাড়ানোর জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহীতে আম বেচাকেনায় ‘ঢলন’ প্রথার অবসান, কেজি দরে কেনাবেচার সিদ্ধান্

বাজেটে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব

সমস্ত অর্থ পাচারের তদন্ত করা হোক : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জার্মানি শক্তিশালী বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক চায়

স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি : তথ্যপ্রতিমন্ত্রী

নিয়ামতপুরে ২০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ১

জয়পুরহাটে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভোট চলাকালে সংঘর্ষ আহত ৯

পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে মালিক সমিতির সঙ্গে আরএমপির মতবিনিময়

নিয়ামতপুরে বিরসা মুন্ডার ১২৬ তম মৃত্যু দিবস পালন

১০

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৩৩

১১

রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬

১২

গোদাগাড়ীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস ও তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

১৩

নিয়ামতপুরে প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন

১৪

বিনা খরচে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

১৫

পদ্মার চরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

১৬

রাজশাহীর কাটাখালী সীমান্ত হতে ভারতীয় মদ জব্দ

১৭

পুঠিয়ায় একশো পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

১৮

রাজশাহীতে ১০৮ বোতল অবৈধ অ্যালকোহলসহ গ্রেপ্তার ২

১৯

কর্মস্থলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

২০

Design & Developed by: BD IT HOST