২ জুলাই ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

সাগর-রুনি খুনের তদন্তে বিলম্ব বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে উপহাস

অনলাইন ডেস্ক : হাইকোর্ট একটি রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে এবং বিচার শুরুতে বিলম্ব আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে ক্রমাগত উপহাস এবং এটি বিচার ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা যাবে না— মর্মে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

গত ১৩ মে দেওয়া ওই রায়ের ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি মঙ্গলবার (২ জুলাই) প্রকাশিত হয়েছে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার রুনিকে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়। রোববার (৩০ জুন) পর্যন্ত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ১১১ বার পিছিয়েছে।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, আমাদের দেশে হত্যার বিচার হতে কখনো কখনো ২০ বছরের বেশি সময় লাগে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে যদি কোনো রাজনৈতিক চেহারা দেওয়া হয়, তাহলে এর চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার এফআইআর দায়ের করা যায়নি ২১ বছরের বেশি সময় ধরে।

এতে আরও বলা হয়, সাগর-রুনি হত্যা মামলার ঘটনার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং সে কারণে এটি এখনও বিচারের আলো দেখতে পারেনি। দুর্ভাগ্যবশত, মামলাটি ক্রমাগত আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে উপহাস করে চলেছে এবং আমাদের অপ্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা দ্বারা কিছুটা প্রতিকার হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ   প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সোহেল তাজ ও শারমিন আহমদের সাক্ষাৎ

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, কিন্তু আপিল বিচারাধীন আছে, তাদের অবশ্যই কনডেম সেলে রাখা যাবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের দণ্ডিতদের কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে স্থানান্তর করতে হবে।

প্রকাশিত রায়ে হাইকোর্ট কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কনডেম সেল থেকে বন্দিদের সাধারণ কারাগারে ক্রমান্বয়ে স্থানান্তরের জন্য নির্দেশ দেন।

গত ১৩ মে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা যাবে না— মর্মে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টাব্যাপী রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আপিল, রিভিউ, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার ধাপগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কনডেম সেলে রাখা যাবে না। বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত হওয়ার আগে সারা দেশে যত আসামিকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে, তাদের দুই বছরের মধ্যে ক্রমান্বয়ে সাধারণ সেলে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে, বিশেষ কারণে (স্বাস্থ্যগত কারণ, সংক্রামক রোগ) কোনো ব্যক্তিকে নির্জন কক্ষে রাখতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির উপস্থিতিতে শুনানি হতে হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি সারোয়ার পায়েল, নাসিম ইসলাম রাজু।

আরও পড়ুনঃ   এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে যা বললো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

আইনজীবীরা বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক রায়

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা কেন বেআইনি হবে না এবং কেন জেলকোডের ৯৮০ বিধি অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না— এই মর্মে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

গত বছরের ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয় সে দিন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

এর আগে, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

চট্টগ্রাম কারাগারে কনডেম সেলে থাকা জিল্লুর রহমানসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন বন্দির পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির রিটটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনকারীরা হলেন, চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলম। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন আসামির আপিল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দাম বাড়ল সব ধরনের জ্বালানি তেলের

তানোর পৌরসভা স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও বৃত্তিপ্রাপ্তদের সম্মাননা

সোমবার বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

তানোরে বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারদের সঙ্গে এমপি মুজিবুর রহমানের মতবিনিময় সভা

রাসিকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, মশক নিধন ও আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গোদাগাড়ীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব শিশুসহ আহত ৫: পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ

‘নিজেদের হাতেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে

হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এইএফআই সার্ভিলেন্স ওরিয়েন্টেন অনুষ্ঠিত

র‍্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

১০

ফরিদপুরে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতামূলক সভা

১১

রুয়েটে সিএএসআর কিমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১২

নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটযুদ্ধ: ৪৬ প্রার্থীর লড়াইয়ে জমে উঠেছে রাজশাহী চেম্বারে ভোট

১৩

হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড : এসএসসিতে পরীক্ষার্থী কমেছে ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ

১৫

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর আমেজ

১৬

রাজশাহী শিল্পী কল্যাণ সংস্থার অভিষেক

১৭

নওগাঁয় স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত

১৮

ক্রেতা সেজে মজুদ করা জ্বালানী ধরল এনএসআই

১৯

উত্তরবঙ্গে শিশু উন্নয়নে মায়েদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

২০

Design & Developed by: BD IT HOST