১১ জুন ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

ছড়িয়ে পড়ছে রাসেলস ভাইপার, শিকার ৪ লক্ষাধিক মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: সাপের উপদ্রব প্রচন্ড বেড়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। সম্প্রতি কয়েক জেলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ। বিশেষ করে পদ্মাবেষ্টিত জেলাগুলোয় এখন রাসেলস ভাইপারের দংশন মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। পদ্মা ও মেঘনা হয়ে এই সাপ এখন চাঁদপুর, চট্টগ্রামেও পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রজাতির সাপ দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায়। রাসেলস ভাইপারের সংখ্যা বাড়ায় এর দংশনে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে এর অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।
দেশে উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৫৭টি দেশে রপ্তানি হলেও এখনও বিষধর সাপের অ্যান্টিভেনম তৈরি করেনি দেশীয় কোনো ওষুধ প্রতিষ্ঠান। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ভারত থেকে অ্যান্টিভেনম আমদানি করে দেশে সরবরাহ করে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাওয়া যায় না।
২০২৩ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (এনসিডিসি) এক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ তিন হাজার মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন। আর যার মধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সম্প্রতি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর ডিক্রির চরে রাসেলস ভাইপারের দংশনে মারা যান হাফিজুর রহমান সোহেল নামের একজন কৃষক। এ ব্যক্তির আত্মীয় মাঠে সাপে কাটার পর সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কোথাও রাসেলস ভাইপার সাপের অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান। হাসান আদিব বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, উত্তরাঞ্চলে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) অ্যান্টিভেনম রয়েছে। কিন্তু কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোরের ফসলের মাঠে রাসেলস ভাইপার সাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব জেলা থেকে এ সাপে কামড়ানো রোগী রাজশাহীতে নিতেই আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।
চিকিৎসকরা জানান, সাপে কামড়ানোর ১০০ মিনিট অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই ভেনম দিতে হবে। কুষ্টিয়া ও পাবনার হাসপাতালগুলোতে সেই ব্যবস্থাও নেই। অথচ পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ ও মেহেরপুরে রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। এ ঘটনার কিছুদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিনুর রহমান সাব্বির রাসেলস ভাইপারের দংশনে মারা যান। তার সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা পাড়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন সাব্বির। এসময় জিলাপি খেয়ে ফেলে দেওয়া কাগজের প্যাকেট আবার হাত মোছার জন্য নিতে গিয়েই রাসেলস ভাইপারের দংশনের শিকার হন। সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।
জানা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত পদ্মার তীরবর্তী রাজশাহী, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপারের দংশনে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মাঝে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে, গত তিন মাসে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চরাঞ্চলেই বিষধর রাসেলস ভাইপারের দংশনে প্রাণ হারিয়েছে পাঁচজন।

আরও পড়ুনঃ   ১২০দিন পর ছাড়পত্র পেয়ে ভারতে ঢুকলো ১৭৬টি সুপারির ট্রাক

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিজ বাড়ি থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেসির অবসরে মাঠের বাইরে বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা!

বগুড়ায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

পরিবারের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মাঝেই জীবিত উদ্ধার নেপালি নারী

আমিই বিশ্বের সেরা ফুটবলার, এটা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই : এমবাপে

স্পর্শিয়া এবার ‘লালপরী’

বিলিয়ন ভিউ ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ল ‘পাসুরি’

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩১৪

পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

পুঠিয়ায় সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ

১০

বাঘায় গরুচুরির ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত ১, চিকিৎসাধীন ১

১১

লালপুরে নির্বাচনি ইশতাহার বাস্তবায়ন বিষয়ে নারী সমাবেশ

১২

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

১৩

চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

১৪

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নবনিযুক্ত সচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন রাসিক প্রশাসক

১৫

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১৬

পুঠিয়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে দীর্ঘদিনের অন্ধকারের অবসান, জ্বলল আলোর বাতি

১৭

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৮

১৮

নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ টিমের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৯

নগরীতে বিশেষ টিমের অভিযানে ৬ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

২০

Design & Developed by: BD IT HOST