মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় মশার ভয়াবহ উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ, যার ফলে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, পৌর কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন-রাত মশার কামড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভয়াবহ মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসীর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দিনের বেলাতেও অনেককে কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টানিয়ে থাকতে হচ্ছে।“মশার কামড়ে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা। ভয়াবহ মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। এতে করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনাতেও ব্যাঘাত ঘটছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে ক্ষোভ মশক নিধন কার্যক্রম বা ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করার কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
মশার উৎসস্থল হিসেবে পরিচিত ড্রেন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।” এলাকায় মশার প্রকোপ দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে দিন-রাত সমানভাবে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এদিকে মশার প্রকোপ বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
পৌর এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা আক্তার বলেন,মশার উপদ্রব এত বেশি যে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যা হলেই মশার আক্রমণ শুরু হয়, এমনকি অনেক সময় দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে বা কয়েল জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে।” স্থানীয়দের আশঙ্কা, মশার প্রকোপ বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ ছিটানো, ড্রেন পরিষ্কার করা এবং ঝোপঝাড় পরিস্কারের দাবি জানিয়েছেন গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার বাসিন্দারা।
গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘পৌর এলাকায় ড্রেন, ডোবা, ঝোপ-ঝাড়ে মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মশা যেন বংশবৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য শিগগিরই ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারার কার্যক্রম শুরু হবে।’
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST