
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা–মোহনপুর এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি ও শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, “কোনো প্রভুত্ব ও দাসত্ব নয়, বন্ধুত্বের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে।”
মঙ্গলবার সকালে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মিলন বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং ধানের শীষ সবার প্রতীক। নির্বাচিত হলে পবা–মোহনপুরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে এ এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি, ফলে মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আছেন এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবেন। এলাকায় বেকারত্ব সমস্যা প্রকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে দলীয় পরিচয় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।
পবা–মোহনপুর কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি ইপিজেড গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই সেখানে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং কর্মমুখী শিক্ষা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মিলন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে “চোখে চোখ রেখে” কথা বলার নীতি অনুসরণ করা হবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার ভারতের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের পানিসংকট নিরসনে পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ, খাল খনন এবং নদী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এবং ধর্মভীরু দল। সব ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিবার কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, এবং প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দুর্নীতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, বিএনপি দুর্নীতিপরায়ণ দল নয়। ক্ষমতায় এলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে মিলন বলেন, ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তিনি সকালেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা এলে তার প্রতিবাদ করার কথাও বলেন। ভোট শেষে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোকলেসুর রহমান, যুবদল রাজশাহী মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বকুল, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, মোহনপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম শিমুল, ধুরইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ভোটাররা।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, তারা এবার ভীত নন এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST